র‌্যাব–১–এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন বলেন, শাহীনকে গ্রেপ্তার করতে চনপাড়ায় অভিযানে যায় র‍্যাব। র‍্যাবের কাছে তথ্য ছিল, শাহীন সেখানে একাই অবস্থান করছেন। এ সশয় র‍্যাবকে লক্ষ্য করে শাহীনসহ ১০ জন গুলিবর্ষণ করেন। র‍্যাব পাল্টা গুলি ছুড়লে শাহীনের পায়ে কয়েকটি গুলি লাগে। আহত অবস্থায় তাঁকে আটক করে ঢাকার মুগদা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহীন মারা যান। 

শাহীনের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে রাখা হয়েছে। তাঁর ছোট ভাই রাশেদুল ইসলাম রাত ১১টায় প্রথম আলোকে বলেন, তিনি তাঁর বড় ভাই শাহীনের মৃত্যুর খবর শুনেছেন। তবে কিভাবে শাহীনের মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি। 

শাহীন রূপগঞ্জের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের ছয় নম্বর ওয়ার্ড এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে। চনপাড়া এলাকার অন্তত তিনজন বাসিন্দা ও শাহীনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহীন চনপাড়া ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় তাঁর বাড়িতে ছিলেন। এ সময় কোনো কারণে শাহীন তাড়াহুড়ো করে ঘর থেকে বের হয়ে ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় যান। পরে সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। 

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, শাহীন চনপাড়া এলাকার সাত নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় দুটি ও ছয় নম্বর ওয়ার্ড এলাকার একটি মাদক বেচাকেনার কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করতেন। শাহীন নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা বলে পরিচয় দিতেন। কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নয় নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য বজলুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন তিনি। বিভিন্ন সভা সমাবেশ ও স্থানীয় নানা অনুষ্ঠানে বজলুর রহমানের পাশেই শাহীনকে দেখা যেত। 

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চনপাড়ার আরেক মাদক ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদিনের সঙ্গে শাহীনের বিরোধ ছিল। এই বিরোধকে কেন্দ্রে করে গত বছরের জুলাইয়ে চনপাড়ায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই সময় চনপাড়ার ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার মো. সামসুকে হত্যা করা হয়। এই হত্যার জন্য সামসুর পরিবার শাহীন ও তাঁর অনুসারীদের দায়ী করেছিলেন। জয়নাল আবেদিন বর্তমানে একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। 

এ ছাড়া গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে র‌্যাবের অভিযানে শাহীনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজু আহমেদ ওরফে রাজাকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনার পর থেকে শাহীন পলাতক ছিলেন। সম্প্রতি তিনি এলাকায় ফিরেছিলেন।