দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এবং শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন আন্তর্জাতিক মান সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন (আইএসও), ইন্টারন্যাশনাল ইলেকট্রোটেকনিক্যাল কমিশন (আইএফসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) প্রধানরা।

কোনো পণ্য বা সেবার আন্তর্জাতিক মান কী হবে, তা নির্ধারণ করে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন (আইএসও)। সংস্থাটি এ পর্যন্ত ২২ হাজার ৩৫৫টি আন্তর্জাতিক মান প্রকাশ করেছে। শুধু পণ্য বা সেবা নয়, কোনো বস্তু ও প্রক্রিয়ার সঠিক পন্থা বা পদ্ধতির আন্তর্জাতিক মানও নির্ধারণ করে আইএসও।
আইএসও একটি বেসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থা। এর প্রধান কেন্দ্র সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) একটি সদস্য।

রাষ্ট্রায়ত্ত মান সংস্থা বিএসটিআই পণ্যের মান নির্ধারণ ও নিশ্চিত করার কাজ করছে। রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর নিয়মিত বাজার তদারকিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নকল ও ভেজাল পণ্য তৈরি এবং ওজনে কারচুপিসহ নানা অনিয়ম ধরা পড়ছে। মানহীন খাদ্যপণ্য নিয়ে আতঙ্কে থাকছেন ক্রেতারা। তাই ভেজালহীন পণ্য যেন ভোক্তার হাতে পৌছে দেওয়া হয়, তা নিয়েই কাজ করছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
বিএসটিআই এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৯৫টি পণ্যের মান নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে ২২৯টি পণ্যের মান নিশ্চিত করা প্রতিষ্ঠানটির জন্য বাধ্যতামূলক। তবে বাধ্যতামূলক পণ্যের বাইরে অন্য পণ্যের গুণগত মান সঠিক কি-না, তা–ও যাচাই করে বিএসটিআই। কেউ চাইলেই শুধু এ সেবা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে কথা হয় বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত) জ্ঞানেন্দ্র নাথ সরকারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আইএসও পুরো পৃথিবীর প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে একটি মান নির্ধারণ করে। অন্যদিকে বিএসটিআইকে আবহাওয়া, ক্রেতাসহ এ দেশের অনেক কিছু বিচার করে কাজ করতে হয়। তাই সব পণ্যের আইএসও মান মেনে চলা যায় না। আবার যেসব পণ্যের রপ্তানি বেশি হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে আইএসও মান মেনে চলতে হয়।’

জ্ঞানেন্দ্র নাথ সরকার আরও বলেন, ‘তবে এটি ভাবার কারণ নেই যে দেশীয় পণ্যে আইএসও মান অনুসরণ করা হয় না। দেশীয় অনেক পণ্যের আইএসও মান অনুসরণ করা হয়। আমাদের আহ্বান থাকে ব্যবসায়ীরা যেন গুণগত মানের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেয়।’
গুণগত মান প্রাধান্য দেওয়ার পাশাপাশি দেশি ভোক্তারাসহ বিদেশি ভোক্তাদের কথা ভাবতে হয়। অর্থাৎ রপ্তানির কথা মাথায় রেখে ব্যবসায়ীদের পণ্য উৎপাদনের পরামর্শ দেন বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক।

মানসম্মত পণ্য আমাদের সবার কাম্য। মানহীন পণ্য বিক্রি করা অপরাধ। সবাই সচেতন না হলে শুধু ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে খাদ্য ও পণ্যের মান নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। মান নেই তো নিরাপত্তা নেই। তাই পরিবার ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার কথা ভেবেই পণ্যের মানের দিকে সচেতন হতে হবে পণ্য প্রস্তুতকারকদের এবং ব্যবসায়ীদের।