পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের দুই বছরে মামলা ৭০, আসামি ৫৫৮ জন: প্রসিকিউটর
পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৭০টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি ৫৫৮ জন। ২৬টি মামলার বিচার চলছে এবং সাতটি মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এসব রায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন জানিয়েছেন, সাতটি মামলার রায়ে মোট ৬৩ জন সাজা পেয়েছেন এবং একজন খালাস পেয়েছেন। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে ২০ জন সাজা ভোগ করছেন, আর ৪১ জন পলাতক।
গাজী মোনাওয়ার হুসাইন বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যখন যাত্রা শুরু করে, তখন দেশ ছিল একটি ‘ভঙ্গুর জনপদ’। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। প্রথমে টিনশেড ভবনে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ভবন সংস্কার করে সেখানে বিচারকাজ শুরু করা হয়। একে একে সাতটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল রয়েছে দুটি।
একেকটি মামলার বিচার শেষ হতে লাগছে সাত থেকে আট মাস
প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন বলেন, ট্রাইব্যুনালে একটি মামলার বিচার শেষ হতে গড়ে সাত থেকে আট মাস লাগছে। তদন্তের ক্ষেত্রে কোনো মামলায় এক বছর, কোনো মামলায় দেড় বছর, আবার কোনো মামলায় ছয় থেকে সাত মাস সময় লাগছে। প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সময় নিচ্ছে।
গাজী মোনাওয়ার হুসাইন আরও বলেন, আসামিপক্ষের অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচার করা হচ্ছে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের অভিযোগ, বিচারের প্রক্রিয়ায় অনেক দেরি হচ্ছে। কিন্তু প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আইন অনুযায়ী যতটুকু সময় নেওয়া প্রয়োজন, ততটুকুই নেওয়া হচ্ছে।
প্রসিকিউটর বলেন, ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছিল। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের আগে গঠিত সেই ট্রাইব্যুনালের প্রথম মামলায় ২০১২ সালের ৪ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম রায় ঘোষণা করা হয়। আবুল কালাম আজাদের ওই মামলায় ১ মাস ২১ দিনে বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছিল।
‘ট্রাইব্যুনাল গঠনে ভূমিকা রাখা ব্যক্তি আজ কাঠগড়ায়’
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে করা একটি মামলায় আজ ষষ্ঠ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।
গাজী মোনাওয়ার হুসাইন বলেন, আজ তাঁরা (মেনন ও কামরুল) ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। ২০১০ সালে তৎকালীন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এই ট্রাইব্যুনাল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। আজ তাঁকে সেই ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে।
প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালের পরিসংখ্যানও তাঁরা শুনেছেন। তাঁর মতে, কেউই বিচারের ঊর্ধ্বে নন। প্রত্যেকের মনে রাখা উচিত, কারও ওপর যেন অবিচার না হয় এবং কাউকে যেন অন্যায়ভাবে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে না হয়।