জবানবন্দিতে সাবেক সমন্বয়ক
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর শটগান দিয়ে গুলি করা হয়
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রাজধানীর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ, র্যাব ও আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী হামলা চালায় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক শাবাব হোসেন। তিনি বলেছেন, সে সময় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আশ্রয় নিলে পুলিশ গেটের ভেতরে শটগান ঢুকিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি করেছিল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ আজ রোববার জবানবন্দিতে শাবাব হোসেন এ কথা বলেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলকের বিরুদ্ধে করা মামলায় নবম সাক্ষী হিসেবে তিনি আজ জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে সাবেক সমন্বয়ক শাবাব হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। তাঁদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ, র্যাব ও আওয়ামী লীগের ক্যাডার বাহিনী হামলা চালায়। তাঁদের ওপর লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও শটগান থেকে গুলি করে। হামলার শিকার হয়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে আশ্রয় নিলে পুলিশ ফটকের ভেতরে শটগান ঢুকিয়ে গুলি করে।
শাবাব হোসেন বলেন, সেদিন ইম্পেরিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী জিল্লুর শেখ পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জিল্লুর শেখের লাশ আন্দোলনকারীরা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ভেতরে নিয়ে আসেন। আন্দোলন শেষে সেদিন তিনি সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন।
সেদিন রাতের বেলা দেখতে পান ইন্টারনেট কাজ করছে না উল্লেখ করে শাবাব হোসেন বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ করার কারণ ছিল তাঁরা যেন আন্দোলনের পরিকল্পনা না করতে পারেন। তাঁরা যাতে সিম ব্যবহার করতে বাধ্য হন এবং তাঁদের ট্র্যাক করা সহজ হয়। সারা দেশে যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছিল, তার সংবাদ যেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশ–বিদেশের মানুষ জানতে না পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কল রেকর্ডের কথোপকথনে শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং জয়ের তত্ত্বাবধানে পলক ইন্টারনেট বন্ধ করেছিল শুনতে পান বলে উল্লেখ করেন শাবাব হোসেন। তিনি বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ করে জুলাই গণহত্যা চালানোর জন্য দায়ী জয়, পলক ও সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। এই হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান তিনি।
এ মামলার আসামি জয় পলাতক। পলক গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।