কক্ষে উইপোকা, বিরোধীদলীয় উপনেতার রাতে সার্কিট হাউস ত্যাগের ঘটনায় কর্মচারীদের নোটিশ
কুমিল্লা সার্কিট হাউসের বরাদ্দ করা কক্ষে উইপোকার কারণে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের গত শুক্রবার রাত্রিযাপন না করে চলে যাওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে সার্কিট হাউসের কক্ষ ও আসবাব নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি অতিথিদের অভিযোগ দ্রুত জানানোর জন্য একটি মুঠোফোন অ্যাপ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় পৃথক দুটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গোপন শাখা থেকে জারি করা একটি আদেশে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগের কথাও বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক রোজী আকতারের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে সার্কিট হাউসের সব কক্ষ, স্টোররুম ও আসবাব সরেজমিনে নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ জন্য নিজ কার্যালয়ের উপযুক্ত দুজন প্রতিনিধির মাধ্যমে গণপূর্ত বিভাগকে লিখিত চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সার্কিট হাউসের অভ্যর্থনা টেবিলে অভিযোগ রেজিস্টার রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেখানে অতিথিরা তাঁদের অভিযোগ লিখিতভাবে জানাতে পারবেন।
পাশাপাশি সার্কিট হাউসে অবস্থানকালে কোনো সমস্যা হলে তা দ্রুত জেলা প্রশাসনকে জানানো ও সমাধানের জন্য একটি মুঠোফোন অ্যাপ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে নেজারত শাখা থেকে জারি করা আরেকটি অফিস আদেশে সার্কিট হাউসে কর্মরতদের সার্কিট হাউসের সব কক্ষ ও আসবাব নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফ্যান, লাইট, দরজা-জানালা, পর্দা, আলমারি, টেবিল-চেয়ার, খাট, ম্যাট্রেসসহ সব আসবাব নিয়মিত পরিষ্কার করতে বলা হয়েছে। ওই আদেশে কক্ষের নাম, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর নাম, পদবি, তারিখ, সময় ও পরিচ্ছন্নতার অবস্থা নির্দিষ্ট ছকে লিখে প্রতিদিন সার্কিট হাউসের নাজিরের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই অফিস আদেশে বিরোধীদলীয় উপনেতার সার্কিট হাউস ত্যাগের ঘটনায় জেলা প্রশাসনকে ‘অত্যন্ত বিব্রতকর’ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গোপন শাখা থেকে জারি করা অবগতির প্রতিবেদন ও অফিস আদেশে জেলা প্রশাসক রোজী আকতার স্বাক্ষর করেছেন। এতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আর নেজারত শাখার অফিস আদেশে নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (ভারপ্রাপ্ত) স্বাক্ষর করেছেন।
এর আগে গতকাল ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চ উপলক্ষে গত শুক্রবার রাতে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে ওঠেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তাঁর জন্য সার্কিট হাউসের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলার ‘রাধাচূড়া-২০২’ নম্বর কক্ষ বরাদ্দ ছিল। রাত ১০টার দিকে কক্ষে বিশ্রাম নিতে গিয়ে তিনি আলমারিতে রাখা কম্বলসহ বিভিন্ন স্থানে উইপোকার উপদ্রুব দেখতে পান। পরে তাঁর সহকারী একান্ত সচিব কক্ষ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করতে সার্কিট হাউসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের বলেন। বিষয়টি কুমিল্লার এনডিসিকে (জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নেজারত ডেপুটি কালেক্টর) জানানো হয় বলে দাবি বিরোধীদলীয় উপনেতার সহকারী একান্ত সচিবের। দ্রুত বিকল্প কক্ষের ব্যবস্থা না হওয়ায় শুক্রবার রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে সার্কিট হাউস ত্যাগ করেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
তবে বিরোধীদলীয় উপনেতা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও গতকাল জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত ওই অবগতির প্রতিবেদন ও অফিস আদেশে বলা হয়, বিরোধীদলীয় উপনেতার সমস্যার বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে ওই কক্ষ পরিবর্তন করে পার্শ্ববর্তী ‘কৃষ্ণচূড়া’ কক্ষে স্থানান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং নেজারত ডেপুটি কালেক্টর, কুমিল্লা (ভারপ্রাপ্ত)-কে দ্রুত সার্কিট হাউসে যেতে বলা হয়। এনডিসি সার্কিট হাউসে পৌঁছার আগেই সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সার্কিট হাউস ত্যাগ করেন এবং শনিবার অপরাহ্ণে আবার আসবেন বলে জানিয়ে যান।
ঘটনার পর শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসন জানার পরই কক্ষ পরিবর্তন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই বিরোধীদলীয় উপনেতা সার্কিট হাউস ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা তাঁদের জানানো হয়। এ ঘটনায় সার্কিট হাউসের আবাসন ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।