বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে অবস্থিত উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন হাসনাতের সঙ্গে সংহতি জানানো শিক্ষার্থীরা৷ তাঁরা ৮ দফা দাবির পক্ষে নানা স্লোগান দেন। এ সময় ওই ভবনের ফটক তালাবদ্ধ ছিল৷ পরে বেলা ২টা ১০ মিনিটে রেজিস্ট্রার ভবনের ফটকে এসে দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে পানি পান করিয়ে হাসনাতের অনশন ভাঙান উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান৷ এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নিজামুল হক ভূইয়া, প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী প্রমুখ উপাচার্যের সঙ্গে ছিলেন৷

হাসনাতের অনশন ভাঙানোর সময় মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ঘোষণা দিচ্ছি, এই মুহূর্ত থেকে কোনো শিক্ষার্থীকে দাপ্তরিক কাজের জন্য আর রেজিস্ট্রার ভবনে যেতে হবে না৷ সব কাজ হল ও বিভাগে সম্পন্ন হবে৷ সেখানে (হল) আমাদের লোকবল দেওয়া আছে, তাঁদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে৷ আমাদের কোনো শিক্ষার্থীকে যেন রেজিস্ট্রার ভবনে এসে মূল্যবান সময় নষ্ট না করতে হয়। সেই সময়টিতে তারা যাতে পড়াশোনা করে, সেমিনার কক্ষে আড্ডা দেয় এবং গ্রন্থাগারে যায়৷ সেখানে (হল ও বিভাগে) কেউ হয়রানির শিকার হলে প্রাধ্যক্ষ ও চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অনশন ভাঙানোর পর সহপাঠী ও সমর্থকেরা আবুল হাসনাত আবদুল্লাহকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান৷ সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে৷

আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ৮ দফা দাবি ছিল—শিক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের জবাবদিহি নিশ্চিতে শিক্ষক-ছাত্র প্রতিনিধিদের নিয়ে অভিযোগ সেল গঠন; সব প্রশাসনিক কার্যক্রম অবিলম্বে ডিজিটালাইজড করা; নিরাপত্তা ও হারিয়ে যাওয়া কাগজপত্র তদন্তের স্বার্থে অফিসগুলোর অভ্যন্তরে প্রতিটি কক্ষে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন; প্রশাসনিক ভবনে অফিসগুলোর প্রবেশদ্বারে ডিজিটাল ডিসপ্লে স্থাপন, যেখানে অফিসগুলোর নাম, কক্ষ নম্বর ও সেবার বিবরণী, কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ও ছবিসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে; কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যকর ও সুন্দর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা ও প্রশাসনিক ভবনের ক্যানটিনের সংস্কার; কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আধুনিক সাচিবিকবিদ্যা, পেশাদারি, মানসিক ও আচরণগত প্রশিক্ষণ আইন করে বাধ্যতামূলক করা, প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসিক সেবাপ্রদানকারী বিভাগ ও সেন্টারগুলোর সহায়তা নেওয়া; অফিস চলাকালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক কিংবা রাজনৈতিক কাজ থেকে বিরত রাখার জন্য প্রশাসনিক ভবনের অভ্যন্তরে থাকা কর্মচারী ইউনিয়ন কার্যালয় বাধ্যতামূলকভাবে তাদের ক্লাবগুলোতে স্থানান্তর নিশ্চিত করা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনকালীন প্রচার পরিবেশবান্ধব করা, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যহানিকর ও পরিবেশ বিপর্যয়কারী অপ্রয়োজনীয় পোস্টার, লিফলেট ও ব্যানার ব্যবহার আইন করে নিষিদ্ধ করা৷

এদিকে অনশন শুরু করার পর ছাত্র অধিকার পরিষদ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও ছাত্র ফেডারেশনসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে এসে হাসনাতের সঙ্গে সংহতি জানান৷ সংহতি জানান ডাকসুর সাবেক জিএস গোলাম রাব্বানী, রেলওয়ের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আলোচনায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মহিউদ্দিন রনিসহ অনেকেই৷ শিক্ষকদেরও কেউ কেউ তাঁর সঙ্গে সংহতি জানান৷ গতকাল রাত থেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন হাসনাত৷ এর মধ্যে তিনি জ্ঞানও হারান৷ তবু অনশন চালিয়ে যান হাসনাত৷ আজ সকালের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মাহবুবুল রহমান অনশনস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন৷

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন