গতকাল রোববার রাজশাহীর চন্দ্রিমা ছোট বনগ্রামের বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), চট্টগ্রাম। এ সময় হাসিব ও তাঁর বাবা হেদায়েত শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা সোমবার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

নাইমা সুলতানা বলেন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানির পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ‘এম এস জাওয়াদ এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি সিগারেট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার হিসেবে চাকরি করতেন হাসিব। চট্টগ্রাম ইপিজেড এলাকার ব্যবসায়ী মাসুদ রানাকে সিগারেট মজুতের লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন সময় কম দামে সিগারেট দিয়ে তাঁর বিশ্বাস অর্জন করেন। একবার হাসিবের কাছ থেকে ৩৬ লাখ টাকার সিগারেটও কেনেন মাসুদ রানা। লাভের আশায় এরপর ৫৩ লাখ ৮৮ টাকার সিগারেটের অর্ডার দেন তিনি। কিন্তু গত বছরের ১০ অক্টোবর টাকা নিয়ে সিগারেট দেননি হাসিব।

এ ঘটনায় গত বছরের ১৭ অক্টোবর হাসিব শেখ ও তাঁর অধীন প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধি মো. রুবেল ও মো. ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে নগরের ইপিজেড থানায় প্রতারণার মামলা করেন মাসুদ রানা। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে মামলাটি তদন্ত শুরু করে পিবিআই।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেপ্তার এড়াতে হাসিব টাকাগুলো নেওয়ার পরপরই রাজশাহী চলে যান। সেখানে তিনবার বাসা বদল করেন। আগের মুঠোফোন ব্যবহার বন্ধ করে নতুন সিম নেন তিনি। এমনকি আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গেও যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এ মাসের শুরুতে মোটরসাইকেল চালাতে গিয়ে ট্রাফিক আইন অমান্য করলে হাসিবকে মামলা দেওয়া হয়। মামলার স্লিপে থাকা মুঠোফোন নম্বর ও  মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সূত্র ধরে অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।