রেলস্টেশনে অস্ত্রের মহড়া ও চাঁদাবাজির দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি শুটিংয়ের

কোলাজ প্রথম আলো গ্রাফিকস

রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কিছু যুবককে হাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যাচ্ছে, ২০ সেকেন্ডের এমন একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে, এটি ‘সিলেট-হবিগঞ্জ রেলস্টেশনে বিএনপি নেতাদের চাঁদাবাজির অংশবিশেষ’। একই ভিডিও ব্যবহার করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও নানা মন্তব্য করা হয়েছে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিও পোস্টের মন্তব্যের ঘরগুলোতে দেখা যায়, ভিডিওটির ঘটনা সত্য ভেবে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন নেটিজেনরা।

প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক

তবে যাচাই করে দেখা গেছে, ভিডিওটি কোনো রাজনৈতিক দলের অস্ত্রের মহড়া বা চাঁদাবাজির ঘটনার নয়। এটি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল রেলওয়ে স্টেশনে তৈরি একটি কনটেন্টের শুটিংয়ের দৃশ্য।

মূল ভিডিওতে মিলল ‘শুটিং ভিডিও’র উল্লেখ

ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধান করে SK Shahin নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল পাওয়া যায়। প্রোফাইলটি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের। সেখানে আলোচিত ভিডিওগুলো প্রকাশ করা হয়েছিল এবং ক্যাপশনে স্পষ্টভাবে এটিকে ‘শুটিং ভিডিও’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক

প্রোফাইলটির অন্যান্য কনটেন্ট পর্যালোচনা করেও দেখা যায়, একই যুবকদের অভিনীত বিভিন্ন ভিডিও সেখানে প্রকাশ করা হয়েছে। আলোচিত ভিডিওর পেছন থেকেও একজনের নির্দেশনা দেওয়ার শব্দ শোনা যায়।

প্রথম লিংক, দ্বিতীয় লিংক

অর্থাৎ ভিডিওটির মূল প্রেক্ষাপট ছিল অভিনয় ও কনটেন্ট তৈরির শুটিং। পরে একই ভিডিও ভিন্ন ক্যাপশনে রাজনৈতিক দলের অস্ত্রের মহড়া ও চাঁদাবাজির দৃশ্য হিসেবে প্রচার করা হয়।

পুলিশের বক্তব্যেও মিলল শুটিংয়ের তথ্য

ভিডিওটি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পর কামারখন্দ থানা পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কথা বলে। কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসমত আলী জানান, কামারখন্দ রেলস্টেশনে অস্ত্রের মহড়া হয়েছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভাইরাল ভিডিওটি মূলত কনটেন্ট তৈরির জন্য করা শুটিংয়ের অংশ।

লিংক: এখানে

পুলিশ আরও জানায়, ভিডিওতে যে অস্ত্রগুলো দেখা যাচ্ছে, সেগুলো কাঠের তৈরি। কনটেন্ট নির্মাতাদের এমন ভিডিও তৈরি না করতে সতর্ক করা হয়েছে, কারণ এ ধরনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

‘গুজবের অবসান’ জানিয়ে শাহিনের বক্তব্য

একই ভিডিওতে এস কে শাহীন নামে পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে দেখা যায়। তিনি জানান, জামতৈল বাজারে একটি শুটিং করেছিলেন এবং অস্ত্রের মহড়ার দৃশ্যটি ছিল সেই শুটিংয়েরই অংশ। বিভিন্ন পেজ ও প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দাবি করা হয়েছে, যা সত্য নয়।

লিংক: এখানে

তিনি আরও বলেন, ভিডিওটি এভাবে ভাইরাল হবে তা তিনি বুঝতে পারেননি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করবেন না।