আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবহতি পূর্বে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে প্রচলিত ব্রিটিশ ভারত ও পাকিস্তান আমলে প্রণীত বর্তমানে চালু আইনের সংখ্যা ৩৬৯টি। সংবিধানের ১৪৯ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে প্রচলিত সকল আইনের কার্যকারিতা অব্যাহত রাখা হয়। ১৯৭৩ সালের বাংলাদেশ ল’স (রিভিশন অ্যান্ড ডিক্লারেশন) অ্যাক্ট প্রণয়নের মাধ্যমে স্বাধীনতা পূর্ব আইনগুলোকে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও অভিযোজন করে বহাল রাখা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে প্রচলিত ব্রিটিশ ভারতের আইনের সংখ্যা ২২২টি এবং পাকিস্তান আমলের আইনের সংখ্যা ১৪৭টি।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মামুনুর রশীদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামে হাইকোর্ট বিভাগের সার্কিট বেঞ্চ স্থাপনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

৬৪টি প্রজাতির মাছ বিলুপ্তপ্রায়

সরকারি দলের সংসদ সদস্য নূর উদ্দিন চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জানান, দেশীয় প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় মাছের সংখ্য্যা ৬৪। বিলুপ্তপ্রায় এসব মাছ রক্ষায় সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে শ ম রেজাউল করিম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উষ্ণতা, সমুদ্রের পানির উচ্চতা এবং লবণাক্ততার বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় মৎস্যসম্পদের ওপর ক্রমশ নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ ছাড়া নদীগুলোতে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ায় ফলে মিঠাপানির মাছ ও প্রাথমিক উৎপাদনশীলতায় পরিবর্তন ঘটছে। উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে মাছের আবাসস্থল, বিচরণ ক্ষেত্র  ও প্রজনন প্রভাবিত হচ্ছে।

জলবায়ুর ধারাবাহিক অবনতির ফলে মৎস্যসম্পদের ওপর নানা ধরনের বিরূপ প্রভাবের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মাছের অনেক আচরণগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হচ্ছে। মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, মাছের প্রজাতি-বৈচিত্র্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ ছাড়া তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টির ফলে মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল, প্রজনন ক্ষেত্র ও লালন ক্ষেত্র হ্রাস পাচ্ছে।

ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমান্বয়ে নিচে নেমে যাওয়ায় পুকুর-দিঘির পানির স্তর কমে যাচ্ছে। বার্ষিক পুকুরগুলো মৌসুমি পুকুরে রূপান্তরিত হচ্ছে। আবাদি পুকুরের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মৎস্য সেক্টরের ওপর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

দেশে খামারের সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে শ ম রেজাউল করিম জানান, সারা দেশে খামারের সংখ্যা ১৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫৯০টি। এর মধ্যে গাভির খামার ২ লাখ ৭০ হাজার ২৯০টি, ছাগল বা ভেড়ার খামার ৮ লাখ ৭৩ হাজার ২০০টি এবং পোলট্রি খামার ১ লাখ ৯৫ হাজার ১০০টি।