নবনীতার একক সংগীতানুষ্ঠানে মুগ্ধ কলকাতার দর্শক
ঘড়ির কাঁটায় তখন সন্ধ্যা সাতটা। মিলনায়তন কানায় কানায় পরিপূর্ণ। কণ্ঠে সুর তুললেন বাংলাদেশের নবনীতা চৌধুরী। শুরু করলেন লালন সাঁইয়ের ‘এমন মানব সমাজ কবে গো সৃজন হবে, যেদিন হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিষ্টান জাতি গোত্র নাহি রবে’। প্রথম গানেই মুগ্ধ করলেন সবাইকে। জবাবে করতালি দিয়ে দর্শক-শ্রোতারা অভিনন্দন জানালেন তাঁকে।
পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনসের (আইসিসিআর) সত্যজিৎ রায় মিলনায়তন মঞ্চে গাইলেন নবনীতা। মঙ্গলবার তাঁর একক সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করে কলকাতার বাংলাদেশ উপহাইকমিশন।
নবনীতা চৌধুরী সাংবাদিকতা আর রেডিও-টেলিভিশনের অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় যুক্ত ছিলেন একসময়। কাজ করেছেন বিবিসি বাংলায়। এখন তিনি ঢাকায় একটি এনজিওতে কর্মরত। ছোটবেলায় গান শিখেছেন সংগীতজ্ঞ ওয়াহিদুল হকের কাছে।
কলকাতার উপহাইকমিশনের আয়োজনে নবনীতার গান শুনতে মিলনায়তনে হাজির হয়েছিলেন কলকাতার সংগীতপ্রিয় মানুষ আর একঝাঁক চলচ্চিত্র তারকা। ছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, অপরাজিতা ঘোষ, মল্লার ঘোষ প্রমুখ। ছিলেন বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াসসহ কলকাতার বিশিষ্টজনেরা।
‘এমন মানব সমাজ কবে গো সৃজন হবে...’ দিয়ে শুরু করার পর নবনীতা চৌধুরী একে একে গাইলেন ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’, ‘এমন সৌভাগ্য আমার কবে হবে’, ‘কোন নামে ডাকিলে তারে’সহ ১৫টি গান। গাইলেন হাসন রাজা, রাধারমণ, শাহ আবদুল করিমের গানও।
নবনীতা গানের ফাঁকে ফাঁকে তুলে ধরলেন গানের ইতিহাস। ব্যাখ্যা করলেন বাংলার বাউলদর্শন ও লোককবিদের আত্মানুসন্ধানের ঝোঁক নিয়ে, যা মুগ্ধ করে শ্রোতাদের।
নবনীতা চৌধুরী প্রথম আলোকে বললেন, ‘সত্যিই কলকাতার মানুষের আজকের এই সাড়া আমাকে বিমোহিত করেছে। আমাকে আগামী দিনে গানের ভুবনে আরও নতুন নতুন গান নিয়ে বিচরণ করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে এই সাড়া। আমি সবার আশীর্বাদ আর ভালোবাসা চাই।’