প্রক্রিয়ায় এত গলদ, চিন্তাও করতে পারবেন না: সংস্কার না হওয়া প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদফাইল ছবি

‘ভাবছিলাম যে সংস্কারটা করে যাব। কিন্তু সংস্কার করতে হলে সবার সহযোগিতা লাগে। প্রক্রিয়াটা ঠিকমতো লাগে। আমি ভেতরে থেকে দেখেছি, প্রক্রিয়ায় এত গলদ, চিন্তাও করতে পারবেন না। তবু তো আমি অর্থ মন্ত্রণালয়ে দ্রুত সমাধান দিয়েছি। সরকারি চাকরি করার অভিজ্ঞতা থাকায় আমি জানি যে কীভাবে কী করতে হয়। অন্যরা তা পারছেন না। অনেক উপদেষ্টার অনেক হতাশা আছে।’ কথাগুলো বলেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে অর্থ উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

সংস্কার না হওয়ার পেছনে সমস্যা কি আমলাতান্ত্রিক? এ প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমলাতন্ত্র অবশ্যই একটা অংশ। আবার আইনগুলোও আগে ভালোভাবে করা হয়নি। আমি গভর্নর থাকার সময় ব্যাংকে এক পরিবার থেকে দুজন না তিনজন ছিল পরিচালক। হঠাৎ করে পরের মন্ত্রী এসে ছয়জন না কতজন করে দিল। এগুলো তো উল্টো দিকে যাওয়া।’

অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর দায়িত্বে থেকে অর্থনীতিকে সন্তোষজনক জায়গায় রেখে যাওয়ার দাবি করেন সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, অর্থনীতি একটা সন্তোষজনক জায়গায় আছে। সামনে যে সরকার আসবে, তাদের জন্য তেমন কোনো অসুবিধা হবে না।’

অর্থনীতি সন্তোষজনক বলছেন, কিন্তু বেকারত্ব তো বেড়ে গেছে—এক সাংবাদিকের এমন বক্তব্যের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘কর্মসংস্থান আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। এটা করতে পারিনি। এ জন্য দরকার ছিল ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের শিল্প করা। আমাদের তো টাকাপয়সা ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংক চেষ্টা করেছে। কিন্তু বড় বড় কারখানায় শ্রমঘনত্ব কম। অনেক ব্যাপার আছে।’

সন্তোষজনকের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, সন্তোষজনক মানে স্থিতিশীল। জিনিসটাকে তারা (পরবর্তী সরকার) সামনে নিয়ে যেতে পারবে। আগের মতো নড়বড় অবস্থায় নেই।

অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরে সর্বোচ্চ ঋণ নিয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সর্বোচ্চ ঋণ নিয়েছি, সর্বোচ্চ ঋণ শোধও দিয়েছি। ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার শোধ করা হয়েছে। সরকারি খাতের কাজগুলো তো করতে হবে। ঋণ নেওয়ার অন্য কারণ হচ্ছে, আগে যেসব ছিল, সেগুলো আর মানা করিনি আমরা।’

‘তাদের দিব্যদৃষ্টি নেই বা ভালো দৃষ্টিও নেই’

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) গতকাল বলেছে, এ সরকার যতটা দৃশ্যমান দেখাচ্ছে, বাস্তবে উন্নয়ন বা সংস্কার ততটা হয়নি। এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, টিআইবির লোকজন সবকিছু দেখতে পারেন না তাঁদের চোখে। তাঁদের দিব্যদৃষ্টি নেই বা ভালো দৃষ্টিও নেই। দেখতে চাইলেও দেখতে পারেন না অনেক কিছু।

ক্ষমতায় গেলে সবাই টিআইবিকে বাঁকা চোখে দেখেন—এক সাংবাদিকের এ বক্তব্যে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘না, না, আমি টিআইবির বদনাম করছি না। আমাকে কোনো দিন দেখেছেন বাইরে থাকতে আলতুফালতু কথাবার্তা বলে সমালোচনা করেছি? আমি সব সময় কিন্তু মৌলিক জিনিসের ওপর কথা বলেছি।’