দেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭ জন: সংসদে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

জাতীয় সংসদ ভবনফাইল ছবি

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এমআইএসে সংরক্ষিত সমন্বিত তালিকা অনুসারে বর্তমানে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৩৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন বলে সংসদে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম বা এমআইএস হলো বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্যের ডিজিটাল ভান্ডার। এটি মূলত অনলাইন বা ডিজিটাল মাধ্যমে সমন্বিত তালিকা হিসেবে পরিচিত।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বেলা ১১টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দেওয়া বিভিন্ন ভাতার কথা তুলে ধরেন। আপাতত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় নেই বলে তিনি জানান।

পৃথক প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, কোনো গেজেটধারী মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিযোগ পাওয়া গেলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত উপকমিটি কর্তৃক তদন্ত/শুনানির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে অমুক্তিযোদ্ধা প্রমাণিত হলে মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

মন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ৮৪২টি অমুক্তিযোদ্ধাসংক্রান্ত অভিযোগের আবেদন জামুকায় পাঠানো হয়েছে। সেগুলো জামুকায় যাচাই-বাছাই এবং তদন্ত করে ৪৮১ জনের গেজেট/লালমুক্তিবার্তা/ভারতীয় তালিকা বাতিল করা হয়েছে। জামুকা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ১০৩টি সভার মাধ্যমে ৬ হাজার ৪৬৫ জনের গেজেট বাতিলের সুপারিশ করেছে।

‘বেশি মূল্যে সার বিক্রির সুযোগ নেই’

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, বিসিআইসি ডিলারদের বিরুদ্ধে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। প্রত্যেক সার ডিলারের বিক্রয় পয়েন্টে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সার বিক্রয় কার্যক্রম চলমান। প্রতিটি সার ডিলার পয়েন্টে দৃশ্যমান জায়গায় সালু কাপড়ে অথবা ব্যানারে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সারের মূল্যতালিকা ঝোলানো আছে। প্রকৃত কৃষক যাচাইপূর্বক ক্যাশ মেমোতে নাম, ঠিকানা ও মুঠোফোন নম্বর উল্লেখ নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি দোকান পরিদর্শনকালে মূল্যসহ ক্যাশ মেমোতে উল্লেখিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। বেশি মূল্যে সার বিক্রি করার সুযোগ নেই।

উপজেলা ভূমি অফিসগুলোতে জেঁকে বসা দুর্নীতি ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে ভূমি মন্ত্রণালয় কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি জানান, ই-নামজারি থেকে শুরু করে হটলাইন ১৬১২২ পর্যন্ত মোট ১১টি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মাধ্যমে এ খাতের অনিয়ম দূর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, ভূমি অধিগ্রহণ এবং লিজ অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমকেও সফটওয়্যারের আওতায় আনার কাজ চলছে। এই ডিজিটাল রূপান্তর সম্পন্ন হলে ভূমি খাতে দুর্নীতির সুযোগ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।