জেএসএসের ৫০ বছর, কোথায় দাঁড়িয়ে পাহাড়ের রাজনীতি
কাপ্তাই বাঁধের ফলে বিপন্ন পাহাড়িদের যে আন্দোলনের সূত্রপাত হয়, সেটিই নানা পথপরিক্রমায় পার্বত্যাঞ্চলে রাজনৈতিক শক্তির বিকাশ ঘটায়। এরই একপর্যায়ে জন্ম নেয় পাহাড়ের প্রথম রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতি। নানা ঘাত–প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে দলটি পার করল অর্ধশতাব্দী।
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে। এ প্রকল্প করতে গিয়ে পাহাড়ের ৫৪ হাজার একর জমি তলিয়ে গেছে হ্রদের পানিতে। সেই হ্রদে মিলেছে উদ্বাস্তু হওয়া লক্ষাধিক পাহাড়ি মানুষের চোখের পানি। ভিটেমাটিহারা পাহাড়ি মানুষের দুর্দশার বিষয়টি তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকদের কাছে ছিল একেবারেই উপেক্ষিত। এমনই এক প্রেক্ষাপটে পাহাড়ি মানুষের অধিকারের দাবিতে সোচ্চার হলেন চট্টগ্রাম কলেজ থেকে স্নাতক পাস যুবক মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এম এন লারমা)। এরপর ১৯৬৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের নিরাপত্তা আইনে এম এন লারমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দুই বছরের মতো কারাগারে ছিলেন। এর মধ্য দিয়ে স্কুলশিক্ষক চিত্তকিশোর চাকমার তৃতীয় সন্তান এম এন লারমা হয়ে উঠলেন পাহাড়িদের প্রতিবাদের প্রতীক।
এম এন লারমা যখন গ্রেপ্তার হন, তখন তিনি এবং তাঁর ছোট ভাই জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা ছিলেন পাহাড়ি ছাত্র সমিতি নামের পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের সংগঠনের সম্মুখসারির নেতা। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগপর্যন্ত মূলত পাহাড়ি ছাত্র সমিতির নেতৃত্বেই নানা কর্মসূচি, প্রতিবাদ ও আন্দোলন চলে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেয় পাহাড়ের প্রথম রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। আজ বুধবার জেএসএসের ৫০ বছর পূর্তি। এ উপলক্ষে পাবর্ত্য তিন জেলায় এবং ঢাকায় বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে।
আঞ্চলিক এই রাজনৈতিক দলের সুবর্ণজয়ন্তীর তাৎপর্য সম্পর্কে আ রিভিউ অব দ্য চিটাগাং হিল ট্র্যাক্টস পিস অ্যাকোর্ড বইয়ের লেখক ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সালাহউদ্দিন এম আমিনুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংখ্যালঘু জাতিসত্তার আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের প্রতি শুরু থেকেই একাত্ম ছিল জেএসএস। একটি রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক তার নির্ণয়ের অন্যতম মাপকাঠি দেশটি তার সংখ্যালঘুদের কতটুকু মর্যাদা দেয়। জেএসএস সেই অধিকার চেয়েছে শুরু থেকে। সেই সঙ্গে দলটি আঞ্চলিক পরিষদের মতো একটি অনন্য প্রতিষ্ঠানের দাবি আদায় করেছে। এর অনেক সীমাবদ্ধতা থাকলেও বিকেন্দ্রীকরণের তাৎপর্য প্রমাণ করেছে।’
পাহাড়ে রাজনৈতিক বিকাশ
পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় ১১টি জাতিসত্তার বাস। প্রতিটি জাতিসত্তার নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি রয়েছে। সমতলের চেয়ে তাদের জাতিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ভিন্নতর। তবে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক তৎপরতা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল না তারা।
ব্রিটিশ শাসনামলেই ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে পাহাড়িদের শিক্ষিত যুবসমাজ সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালাতে থাকে। ১৯১৫ সালে রাজমোহন দেওয়ানের নেতৃত্বে চাকমা যুবক সমিতি গঠন করা হয়। কামিনী মোহন দেওয়ানের নেতৃত্বে ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসমিতি। এটি ছিল মূলত সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। ১৯২৮ সালে চাকমা যুবক সংঘ নামে ঘনশ্যাম দেওয়ানের নেতৃত্বে আরেকটি সংগঠন জন্ম নেয়। যেটি পাহাড়িদের জাতীয় চেতনা উন্মেষের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৩৯ সালে যামিনীরঞ্জন দেওয়ান ও স্নেহ কুমার চাকমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসমিতি পুনরুজ্জীবিত হয়।
১৯০০ সালের শাসনবিধির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার। পাকিস্তান সরকার তা লঙ্ঘন করে সেখানে অনুপ্রবেশ ঘটাতে থাকে। ১৯৫৮ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম (ভূমি অধিগ্রহণ) প্রবিধান নামে কালো আইন জারি করে। তার আগে ১৯৫৬ সালে পাহাড়ি ছাত্র সমিতি পুনরুজ্জীবিত হয়। তারা বিভিন্ন দাবিদাওয়া তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের কাছে তুলে ধরে। ১৯৫৭ সালে চট্টগ্রামের কানুনগোপাড়ায় ছাত্র সমিতির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৬০ সাল থেকে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে পাহাড়ি ছাত্র সমিতি ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। ১৯৬২ সালের ১৩ নভেম্বর চট্টগ্রাম বান্ডেল রোডে পাহাড়ি ছাত্রাবাসে ছাত্রদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে এম এন লারমা জুম্ম (পাহাড়ি) ছাত্রসমাজকে গ্রামাঞ্চলে গিয়ে পাহাড়ি সমাজের শিক্ষাবিস্তারসহ জাতীয় জাগরণ ঘটানোর আহ্বান জানান। বিশিষ্ট সংস্কৃতি কর্মী সুরেন্দ্র লাল ত্রিপুরার উদ্যোগে ১৯৬৫ সালে ‘ত্রিপুরা উপজাতি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সংসদ’ নামে একটি সংগঠন গঠন করা হয়।
১৯৬৬ সালে সন্তু লারমা ও কিছু তরুণের নেতৃত্বে গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম উপজাতীয় কল্যাণ সমিতি। সেই সময় রাজনৈতিক দল গঠন করা কঠিন ছিল। তাই কল্যাণ সমিতি গঠন করে মূলত রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো হয়। ওই সময়েই স্কুলশিক্ষক সন্তু লারমার নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শিক্ষক সমিতি।’ পেশাজীবীদের এই সংগঠন পাহাড়ের নানা শ্রেণির মানুষকে রাজনৈতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে।
ষাটের দশকে পাহাড়ি ছাত্র সমিতির এক সময়কার কিছু সক্রিয় সদস্য শিক্ষাজীবন শেষ করে রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টির কাজে যুক্ত হন। তখনকার ওই প্রচেষ্টাকে অভিনব বলে মনে করেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক পঙ্কজ ভট্টাচার্য। তিনি এম এন লারমার বন্ধু ছিলেন। চট্টগ্রাম কলেজে দুজন একসঙ্গে পড়েছেন। আবার একসঙ্গে জেলও খেটেছেন।
পঙ্কজ ভট্টাচার্য প্রথম আলোকে বলেন, ‘এম এন লারমা আমার ক্লাসমেট ও জেলমেট। তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক অটুট ছিল। শিক্ষকসমাজকে রাজনৈতিক সচেতনতার কাজে যেভাবে তাঁরা শুরু করেছিলেন, তা অভিনব। জেএসএস যখন পুরোপুরি রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে, তখনো এ ধারা অব্যাহত ছিল।’
সক্রিয় রাজনৈতিক দল না হলেও ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম উপজাতি কল্যাণ পরিষদের’ ব্যানারে বিপুল ভোটে জয়ী হন এম এন লারমা।
জেএসএস গঠন ও সশস্ত্র আন্দোলন
রাজনৈতিক দল হিসেবে পাবর্ত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৭২ সালে। ওই বছরই তৎকালীন গণপরিষদ সদস্য এম এন লারমাসহ সাত সদস্যের প্রতিনিধিদল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল—পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গঠন, ১৯০০ সালের শাসনবিধির মতো পাহাড়ের মানুষের বিশেষ অধিকারের শাসনতান্ত্রিক নিশ্চয়তা, পাহাড়ির রাজাদের দপ্তর সংরক্ষণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে কোনো শাসনতান্ত্রিক পরিবর্তনে ওই অঞ্চলের মানুষের মতামত গ্রহণ।
পরবর্তী সময়ে এসব দাবিতে জাতীয় সংসদে দাবিতে সোচ্চার ছিলেন এম এন লারমা। ১৯৭৫ সালে জেএসএস সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করে। গঠন করে সশস্ত্র শাখা ‘শান্তি বাহিনী’। এরপর ক্রমে পার্বত্য এলাকায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। তখন অনেক পাহাড়ি মানুষ দেশত্যাগ করে। সশস্ত্র লড়াই চলার সময় ১৯৮৩ সালের ১০ নভেম্বর আটজন সহযোদ্ধাসহ এম এন লারমাকে হত্যা করে নিজ দলেরই একটি অংশ।
সশস্ত্র আন্দোলনের মধ্যেও জেএসএস বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে একাধিক বইয়ের লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মোহসীন বলেন, ‘জেএসএস কখনোই আলোচনার পথকে রুদ্ধ করেনি। তাদের নিয়ে একটা ভুল ধারণা আছে যে তারা স্বাধীনতা চেয়েছিল। আসলে তারা চেয়েছিল স্বায়ত্তশাসন। এই দাবিতে সশস্ত্র আন্দোলনের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তারা আলোচনাকে প্রাধান্য দিয়েছে। এটা তাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার ফসল।’
১৯৮৫ সালের ২১ অক্টোবর এরশাদ সরকারের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরু হয় জেএসএসের। ওই বৈঠকে জেএসএসের প্রতিনিধিদল পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকে রাজনৈতিক ও জাতীয় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে। তারা চায় রাজনৈতিকভাবে সেখানকার সমস্যার সমাধান হোক।
তবে এরশাদ সরকারের সঙ্গে ছয় দফা বৈঠক হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার এসেও জেএসএসের সঙ্গে আলোচনা করে। সে সময়ের যোগাযোগমন্ত্রী অলি আহমদের নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির সঙ্গে মোট ১৩ বার বৈঠক হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি।
১৯৯৬ সালের ১৪ অক্টোবর শেখ হাসিনা সরকার জাতীয় সংসদের তৎকালীন চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক জাতীয় কমিটি গঠন করে। এ কমিটির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এরপর অস্ত্র সমর্পণ করে জেএসএসের সামরিক শাখা শান্তি বাহিনী। শেষ হয় দুই দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাত।
জেএসএসে বিভাজন
জেএসএস প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাহাড়ি কিছু গোষ্ঠীর কাছে থেকে বাধা পেয়েছে। পাহাড়ি যুব সংঘ, ট্রাইবাল পিপলস পার্টি (টিপিপি), পূর্ববাংলার সর্বহারা পার্টি ও তার সহযোগী সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম গণমুক্তি পরিষদ, মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এমএনএফ), বামাঞাতা গ্রুপ, রাকাপা—এসব গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বিরোধিতার মুখে পড়ে দলটি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পর নতুন করে বিভাজন শুরু হয়। এ চুক্তি পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবি মেটায়নি, এমন কথা বলে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, গণপরিষদ এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশনের একটা অংশ চুক্তির বিরোধিতা করে একটা দল গঠন করে। নাম দেওয়া হয় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রটিক ফ্রন্ট ( ইউপিডিএফ)। এই সংগঠনের সঙ্গে জেএসএসের দ্বন্দ্ব–সংঘাতের জেরে এখনো পাহাড়ে রক্ত ঝরছে।
২০০৭ সালে জেএসএস ভেঙে তৈরি হয় জেএসএস (এম এন লারমা)। ২০১৭ সালের নভেম্বরে ইউপিডিএফ ভেঙে তৈরি হয় ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)। এরপর সংঘাত ও খুনাখুনি আরও বেড়ে যায়।
বামধারার রাজনীতি ও জেএসএস
এম এন লারমাসহ জেএসএসের প্রতিষ্ঠাকালীন বেশির ভাগ সদস্য বামপন্থী ছিলেন। বাংলাদেশের মূলধারার বামপন্থী অনেক দলের সঙ্গে
তাদের সুসম্পর্ক ছিল এবং এখনো আছে। তবে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে পাহাড়িদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি মৌন সমর্থন থাকলেও বামপন্থী এসব দল সোচ্চার ছিল না। এ নিয়ে জেএসএসের নেতাদের অনেকে মনোবেদনার কথা জানিয়েছেন।
জেএসএসের তথ্য ও প্রচার বিভাগের সদস্য দীপায়ন খীসা প্রথম আলোকে বলেন, ‘জনসংহতি সমিতির রাজনৈতিক দর্শনের কাছাকাছি দেশের বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো। কিন্তু এসব রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতির আদর্শিক ও সংগ্রামের সহযাত্রী হতে মনোযোগী হয়নি।’
শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জেএসএসের আন্দোলনে সহযোগিতা দিয়ে আসছেন ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের কারও কারও জেএসএসের নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল। কিন্তু পাহাড়ি মানুষের চাওয়াকে আমরা যথাযথভাবে বুঝতে পারিনি। এটা আমাদের দুর্বলতা।’
জেএসএস: বছর ৫০ পরে
একটি নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জেএসএস। একসময় দলটি সশস্ত্র আন্দোলনের পথে নামে। পরবর্তী সময়ে পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পথে ফিরে আসে তারা। যদিও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার ও জেএসএসের অবস্থান বিপরীতমুখী। জেএসএসের সভাপতি ও আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা সরকারকে দোষারোপ করেন। পার্বত্য চুক্তিরও ২৫ বছর পূর্তি হলো গেল বছরের ২ ডিসেম্বর। সেদিনও তিনি ক্ষোভের কথা বলেন। তিনি ওই সময় প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘চুক্তি স্বাক্ষরের পর আমরা প্রতিদিন, প্রতি মাস, প্রতিটি বছর এর সফল বাস্তবায়ন দেখতে চেয়েছি। সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছি; কিন্তু আমাদের তেমন কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। চুক্তির বাস্তবায়ন সরকারকেই করতে হবে।’
চুক্তির বাস্তবায়নে আলোচনা ও আন্দোলন—দুটি একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়াকে জেএসএসের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচায়ক বলে মনে করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সদস্য অধ্যাপক মং সানু চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সশস্ত্র আন্দোলনের পর নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে এসে হয়তো অনেক সীমাবদ্ধতা আছে জেএসএসের। তবে চুক্তির বাস্তবায়নে দলটির সহযোগিতার মনোভাব রয়েছে, তারা বৈরী হয়নি।