ঘুষের মামলায় দণ্ডিত বাছিরের জামিন প্রত্যাহার

এনামুল বাছির

ঘুষ লেনদেনের মামলায় আট বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বরখাস্ত পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে দেওয়া জামিন তুলে নিয়েছেন হাইকোর্ট। গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দিয়েছিলেন। এই আদেশ প্রত্যাহার করে আজ বুধবার বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেন।

ওই মামলায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালত পৃথক দুটি ধারায় এনামুল বাছিরকে (পাঁচ বছর ও তিন বছর) মোট আট বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাঁকে ৮০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই মামলায় বরখাস্ত পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে এক ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সাজার রায়ের বিরুদ্ধে এনামুল বাছির আপিল করেন, যা গত ১৩ এপ্রিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ৮০ লাখ টাকা জরিমানা স্থগিতের পাশাপাশি নথি তলব করা হয়। এরপর তার জামিন চাওয়া হয়। এর ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল হাইকোর্টের একই বেঞ্চ বাছিরকে জামিন দেন। এরপর আজ বিষয়টি কার্যতালিকায় ওঠে।

আদালতে এনামুল বাছিরের পক্ষে আইনজীবী ফারুক আলমগীর চৌধুরী এবং দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান উপস্থিত নেন।

পরে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘জামিন আবেদন না দিয়েই বাছিরের আইনজীবী শুনানি করেন। বিষয়টি নজরে এলে হাইকোর্ট গতকাল দেওয়া জামিনাদেশ রিকল (প্রত্যাহার) করেছেন। বাছিরের আইনজীবীকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। সেই সঙ্গে জামিন আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আদালত।’

বাছিরের আইনজীবী ফারুক আলমগীর চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাছিরকে পৃথক দুটি ধারায় তিন ও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন বিচারিক আদালত। রায়ে উভয় সাজা একসঙ্গে চলবে বলে বলা হয়। এ হিসাবে এনামুল বাছিরের কারাভোগের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। কারাবিধির হিসাব অনুযায়ী, তিনি প্রায় চার বছর কারাগারে আছেন। শুনানি নিয়ে গততাল হাইকোর্ট জামিন দিয়েছিল, সেই আদেশ আজ প্রত্যাহার করেছেন।’

দুদকের মামলা থেকে বাঁচিয়ে দিতে তৎকালীন ডিআইজি মিজানুরের কাছ থেকে বাছির ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়। অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় ২০১৯ সালের ১৬ জুলাই দুজনের বিরুদ্ধেই মামলা করেন দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যা।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাছির কমিশনের দায়িত্বে থাকাকালে অসৎ উদ্দেশ্যে নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তিনি মিজানুরকে অবৈধ সুযোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর কাছ থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও মানি লন্ডারিং আইনে অপরাধ করেছেন।