১১৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাসে গেছে ৫৪টি, মান নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাওয়ায় অগ্রগতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়লেও প্রশাসনিক নেতৃত্ব ও মান নিয়ে প্রশ্ন। 

দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে, বেড়েছে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। একসময় ভাড়া করা ভবনে সীমিত পরিসরে চলা এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ধেকই নিজস্ব ক্যাম্পাসে গেছে; কিন্তু অবকাঠামোগত এ অগ্রগতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি একাডেমিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্ব। 

দেশে এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৭। এর মধ্যে ৫৪টি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩০টিতে উপাচার্য (ভিসি) নেই। আরও বড় শূন্যতা সহ-উপাচার্যের পদে; ৮৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পদে কেউ নেই। ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ নেই। এর মধ্যে ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ—শীর্ষ এই তিন পদ খালি। 

শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান শুধু ভবন, জমি কিংবা নিজস্ব ক্যাম্পাস দিয়ে বিচার করা যায় না। মানসম্মত শিক্ষক, গবেষণা, পাঠদানের পরিবেশ, একাডেমিক নেতৃত্ব, গ্রন্থাগার ও গবেষণাগার, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সুশাসন ও জবাবদিহি—সব মিলিয়েই একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত মান নির্ধারিত হয়। ফলে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাওয়ার অগ্রগতির পাশাপাশি নেতৃত্বের শূন্যতা এবং মানের ঘাটতি দূর করা জরুরি। 

আরও পড়ুন

বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাড়ে তিন লাখের বেশি। মোট শিক্ষক সাড়ে ১৭ হাজার। অর্থাৎ দেশের উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখন একটি বড় অংশ বহন করছে এবং শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

তিন শীর্ষ পদে শূন্যতা

ইউজিসি সূত্র বলছে, ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আচার্যের নিয়োগ করা উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ কেউ নেই। এর একটি ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। সেখানে ২০২২ সাল থেকে উপাচার্য নেই এবং ২০১৯ সাল থেকে কোষাধ্যক্ষ নেই। ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়টির ঠিকানা রাজধানীর পান্থপথের বারেক ম্যানশনে। 

১৪ সেপ্টেম্বর ওই ভবনে গিয়ে দেখা যায়, ছয়তলা পর্যন্ত বিভিন্ন ফার্নিচারের দোকান। সাততলায় ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটির কার্যালয়। তবে সেটি বন্ধ। দরজার অস্বচ্ছ কাচ দিয়ে ভেতরে অগোছালো অবস্থা দেখা যায়। সাইনবোর্ডটিও খুলে ভেতরে রাখা হয়েছে। নিজস্ব ক্যাম্পাসে না যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে। ছয়তলায় একটি ফার্নিচারের একজন কর্মী প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকজনকে মাঝেমধ্যে আসতে দেখেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ পদগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু বিভিন্ন কারণে এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। তবে ইউজিসির কাছে প্যানেল আসার পর দ্রুততার সঙ্গে মতামত দিয়ে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
মামুন আহমেদ, অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, ইউজিসি

শীর্ষ তিন পদ শূন্য থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আরও আছে চট্টগ্রামের সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ঈশা খাঁ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, জার্মান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি, দ্য পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। 

ঢাকার মোহাম্মদপুরে অবস্থিত দ্য পিপলস ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য প্যানেল তৈরি করেছেন। খুব শিগগির সরকারের কাছে তা জমা দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ১১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দিতে হলে মোট ৩৫১ অধ্যাপকের প্রয়োজন। একসঙ্গে এত যোগ্য ও অভিজ্ঞ অধ্যাপক পাওয়া সহজ নয়। এর সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পছন্দের ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার প্রবণতাও যুক্ত হয়েছে। 

আরও পড়ুন

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপাচার্য, সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ পদগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু বিভিন্ন কারণে এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। তবে ইউজিসির কাছে প্যানেল আসার পর দ্রুততার সঙ্গে মতামত দিয়ে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

৫৪টি স্থায়ী ক্যাম্পাসে, ২৮টি এখনো বাইরে

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম শর্ত ছিল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে যাওয়া। একসময় ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিভিন্ন ভবন ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হতো অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। এতে শ্রেণিকক্ষ, গবেষণা, গ্রন্থাগার, ল্যাবরেটরি ও শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন ছিল। 

ইউজিসির তথ্যানুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চাপে রাখার পর বর্তমানে ৫৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ক্যাম্পাসে গেছে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগাং, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, আন্তর্জাতিক ইসলামি ইউনিভার্সিটি-চট্টগ্রাম, আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, গণ বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, লিডিং ইউনিভার্সিটি, বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, সিটি ইউনিভার্সিটি, নর্দান ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, গ্রীণ ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, পুণ্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটিসহ অধিকাংশ পুরোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আরও পড়ুন

ইউজিসির একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ১৯৯২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্থাপিত পুরোনো ৫১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৪-৫টি ছাড়া বাকিগুলো নিজস্ব ক্যাম্পাসে চলে গেছে। তবে এরপর প্রতিষ্ঠার সময় থেকে আইনানুযায়ী নির্ধারিত সময় (১২ বছর) পেরিয়ে গেলেও অন্তত ২৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখনো নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি।

বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন ও পরিচালনার জন্য প্রথম আইন করা হয়েছিল ১৯৯২ সালে। পরে সেটি বাতিল করে ২০১০ সালে নতুন আইন করা হয়। আইন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িক অনুমোদন নিয়ে যাত্রা শুরু করতে পারে। এর জন্য কমপক্ষে নয়জন ট্রাস্টি তথা মালিক নিয়ে পর্ষদ, ২৫ হাজার বর্গফুটের নিজস্ব বা ভাড়া বাড়ি, তিনটি অনুষদ ও ছয়টি বিভাগ এবং এলাকাভেদে দেড় থেকে পাঁচ কোটি টাকা সংরক্ষিত তহবিল হিসেবে ব্যাংকে জমা রাখাসহ মোট ১০টি শর্ত পূরণ করতে হয়।

সাময়িক অনুমোদন পাওয়ার পর পরবর্তী সাত বছরের মধ্যে আরও কিছু শর্ত পূরণ করলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী সনদ পাওয়ার যোগ্য হয়। এর মধ্যে রয়েছে এলাকাভেদে নির্ধারিত পরিমাণ জমিতে নিজস্ব ক্যাম্পাসে যাওয়া, গবেষণার জন্য বাজেট রাখা ইত্যাদি। নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় কমপক্ষে ১ একর এবং অন্যান্য এলাকায় ২ একর জমি থাকার শর্ত রয়েছে।

সাময়িক অনুমোদন পাওয়ার পর পরবর্তী সাত বছরের মধ্যে আরও কিছু শর্ত পূরণ করলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী সনদ পাওয়ার যোগ্য হয়। নিজস্ব ক্যাম্পাসসহ অন্যান্য সব শর্ত পূরণ করে এখন পর্যন্ত স্থায়ী সনদ পেয়েছে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়।

তবে নিজস্ব ক্যাম্পাসসহ অন্যান্য সব শর্ত পূরণ করে এখন পর্যন্ত স্থায়ী সনদ পেয়েছে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হলো—ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগাং, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, লিডিং ইউনিভার্সিটি, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সিটি ইউনিভার্সিটি, গ্রীণ ইউনিভার্সিটি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি, বরেন্দ্র ইউনিভার্সিটি, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি, খাজা ইউনূস আলী বিশ্ববিদ্যালয় এবং নাটোরে বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি।

বাড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশ্ন মান নিয়ে

দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের বিদেশমুখী হওয়া নিরুৎসাহিত করা। শুরুর দিকে শিক্ষানুরাগী উদ্যোক্তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসেন। তবে ২০০১ সালের পর রাজনৈতিক বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেওয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি ও রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রতিষ্ঠিত কিছু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণার চেয়ে ‘সনদ বিক্রি’র দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছে। 

আরও পড়ুন

ইউজিসির তথ্যানুযায়ী, ১৯৯২-৯৫ সালের মধ্যে ১১টি, ১৯৯৬-০১ সালের মধ্যে ১২টি, ২০০২-০৬ সালের মধ্যে ৩২টি, ২০১২-২৪ সালের মধ্যে ৬০টি বিশ্ববিদ্যায়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে (২০২৫ সালে) ঢাকায় গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় ও বর্তমান সরকারের সময় গত আগস্টে ঠাকুরগাঁওয়ে ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের ২৮ জেলায় ১১৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থিত। এর মধ্যে ৫৯টি ঢাকা মহানগরসহ ঢাকা জেলায়। এরপর চট্টগ্রামে ১০টি, সিলেটে ৫টি, নারায়ণগঞ্জে ৫টি, খুলনা ও রাজশাহীতে ৪টি করে; কুমিল্লা, বরিশাল ও কুষ্টিয়ায় ৩টি করে এবং কিশোরগঞ্জ ও নাটোরে ২টি করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বগুড়া, মুন্সিগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, শরীয়তপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, ফেনী, ফরিদপুর, জামালপুর, কক্সবাজার, গাজীপুর, নীলফামারী, মানিকগঞ্জ, বান্দরবান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, রংপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলায় একটি করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় অংশ এখনো রাজধানী ও এর আশপাশে অবস্থিত। ঢাকার বাইরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিস্তার ঘটলেও সব অঞ্চলে সমানভাবে তা হয়নি। 

শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শীর্ষ শূন্য পদগুলোতে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত করার পাশাপাশি যেসব বিশ্ববিদ্যালয় আইনানুযায়ী শর্ত পূরণ করছে না, সেগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

আরও পড়ুন