অন্তর্বাসে এনেছিলেন ১২ কেজি সোনা, ধরা পড়ে কারাগারে দুই চীনা নাগরিক
দুবাই থেকে ঢাকায় এসেছিলেন দুই চীনা নাগরিক। কালো কাপড় দিয়ে সেলাই করে বিশেষ কায়দায় প্যান্ট ও অন্তর্বাসে লুকিয়ে রেখেছিলেন ১২ কেজি সোনার পেস্ট। গ্রেপ্তার করে রিমান্ড শেষে আজ বৃহস্পতিবার কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
গত ২৯ অক্টোবর দুই চীনা নাগরিক চেন লিইউন এবং মো শিয়াওইউকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করার পর সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে আদালতে তোলা হলে আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলামের আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এই ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মো. মাজেদুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রিমান্ড শেষে আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে, গত ২৯ অক্টোবর দুই চীনা নাগরিককে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন ঢাকার একটি আদালত। সাত দিনের রিমান্ড শেষে আজ আসামিদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম।
এ ঘটনায় দুই চীনা নাগরিকের বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (প্রিভেন্টিভ) জামিল সারোয়ার আহাদ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন বিমানবন্দর থানায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে দুবাই থেকে এমিরেটসের ফ্লাইট ইকে–৫৮৬ করে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন দুই চীনা নাগরিক। কোনো ব্যাগেজ ঘোষণা না দিয়ে গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার সময় কাস্টমসের একটি দল তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাঁদের পরা জিনসের প্যান্ট ও অন্তর্বাসের মধ্যে কালো কাপড় দিয়ে সেলাই করে বিশেষ কায়দায় লুকানো নরম হলুদ রঙের পেস্টজাতীয় বস্তু পাওয়া যায়। কাপড় কেটে বস্তুগুলো উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে স্বর্ণকারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে এগুলো ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণ বলে নিশ্চিত হন কাস্টমস কর্মকর্তারা।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দুই আসামির প্রত্যেকের কাছ থেকে আনুমানিক ৬ কেজি করে মোট ১২ কেজি স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে স্বর্ণের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা হয়নি। এ ঘটনায় আসামিদের কাছ থেকে দুটি মুঠোফোন, পরা প্যান্ট, অন্তর্বাস ও স্কচটেপসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়।