মামলার জন্য জব্দ রক্তমাখা পোশাক, নির্যাতনের চেয়ার যাবে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিভিন্ন মামলার জব্দ করা বিভিন্ন আলামত ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’–এ এক মাসের জন্য প্রদর্শিত হবে। এই আলামতের মধ্যে রয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ে হতাহত ব্যক্তিদের রক্তমাখা পোশাক ও নির্যাতন চালানোর চেয়ার ইত্যাদি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১ আজ বুধবার আলামতগুলো জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে প্রদর্শনের অনুমতি দেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আদালতের আদেশের পর প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, গণভবনকে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে বর্তমান সরকার ঘোষণা করেছে এবং তার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ২০ জানুয়ারি সেটি উদ্বোধন হবে। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ আলামতগুলো প্রদর্শনের জন্য প্রসিকিউশনের মাধ্যমে আবেদন করার পর আজ ট্রাইব্যুনাল অনুমতি দেন।
গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, ট্রাইব্যুনাল এক মাসের একটি অনুমতি দিয়েছেন। একটি নির্দিষ্ট তারিখ থেকে এক মাসের জন্য এগুলো জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে রাখা যাবে।
আলামতগুলো নিয়ে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, ট্রাইব্যুনালে যেসব মামলা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে অথবা চলমান, সেখানে যেসব উপাদান জব্দ করা হয়েছে, যেমন গুলি, অস্ত্র, রক্তমাখা পোশাক অথবা যেসব চেয়ারে এই নির্যাতনগুলো করা হয়েছে ইত্যাদি।
রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের গণভবনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তরিত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে এই ভবনে থাকতেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর উল্লসিত জনতা গণভবনে ঢুকে পড়েছিলেন। গণ–অভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখতে অন্তর্বর্তী সরকার সরকারি এই ভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।