সুপ্রিম কোর্ট ও প্রধান বিচারপতির বাসভবনের নিরাপত্তায় করণীয় নিয়ে জাজেস কমিটির সভা
সুপ্রিম কোর্ট এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা এবং প্রধান বিচারপতির বাসভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে করণীয় নিয়ে জাজেস কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের সম্মেলনকক্ষে এই সভা হয়।
রাজধানীর নয়াপল্টনে গত শনিবার পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতা–কর্মীদের সংঘর্ষে দলটির মহাসমাবেশ পণ্ড হয়। এ কর্মসূচি কেন্দ্র করে নয়াপল্টন ও আশপাশের অন্তত ছয়টি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষে জড়ান দলটির নেতা-কর্মীরা। হামলা হয় কাকরাইলে প্রধান বিচারপতির বাসভবন ও রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে।
প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার পর সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে সোমবার বিচারপতিদের জরুরি মতবিনিময় সভা হয়। প্রধান বিচারপতির সভাপতিত্বে বিকেল সোয়া চারটা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত সভা চলে। সভায় প্রধান বিচারপতির বাসভবন, জাজেস কোয়ার্টারের নিরাপত্তাসহ বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত নিয়ে আলোচনা ও প্রস্তাব তুলে ধরা হয় বলে সভা সূত্র জানিয়েছে।
এর এক দিন পর মঙ্গলবার বিকেলে জাজেস কমিটির সভা হলো। সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, জাজেস কমিটির সভায় সুপ্রিম কোর্ট চত্বর, প্রধান বিচারপতির বাসভবন, ২০ তলাবিশিষ্ট জাজেস টাওয়ার ও জাজেস কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং এসব এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতসহ বিবিধ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
সভায় অংশ নেওয়া একাধিক সূত্র জানায়, নিরাপত্তা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে বাইরে থেকে সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশের ফটকগুলোয় কার স্ক্যানার এবং আদালতের ভেতরে প্রবেশপথে লাগেজ স্ক্যানার বসানোর প্রস্তাব করা হয়। শিগগিরই এ জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হবে। স্টিকারবিহীন গাড়ি যাতে সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। এ ছাড়া মৎস্য ভবন মোড় থেকে মগবাজার মোড় এবং নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় পর্যন্ত মিছিলবাহী গাড়ি এবং মিছিল নিয়ে যাতে কেউ যেতে না পারেন—তা নিশ্চিতের ওপর কেউ কেউ জোর দিয়েছেন। সভায় পুলিশ, ট্রাফিক, আইনজীবীসহ অংশীজনদের করণীয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় আসা প্রস্তাবগুলো প্রধান বিচারপতি কাছে তুলে ধরা হবে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
সভায় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের, বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীম, বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. মোমতাজ উদ্দিন ফকির, পুলিশ মহাপরিদর্শকের প্রতিনিধি, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রতিনিধি, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল, আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।