হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রেজাউল হাসান পদত্যাগপত্র দিয়েছেন

বিচারপতি মো. রেজাউল হাসানছবি: সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে পদত্যাগপত্রটি গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠানো হয়।

জানতে চাইলে আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে গতকাল তিনি (বিচারপতি রেজাউল হাসান) পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র দেন তিনি। বিধি অনুসারে পদত্যাগপত্রটি গতকাল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর (বিচারপতি রেজাউল হাসান) বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কার্যক্রম চলমান ছিল।

কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়। কাউন্সিল গঠিত হয় প্রধান বিচারপতি ও পরবর্তী জ্যেষ্ঠ দুজন বিচারপতিকে নিয়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যমতে, বিচারপতি রেজাউল হাসানের বিরুদ্ধে ২০১০ ও ২০১১ সালের দুটি কোম্পানি মামলার কার্যধারায় পক্ষপাতমূলক আচরণসহ দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে পাঠাতে একটি আবেদন জমা পড়ে। গত বছরের ২৪ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর আবেদনটি দেন শাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মজিবুল হক।

এই নালিশের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিচারপতি রেজাউল হাসান গত ১০ ডিসেম্বর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়। সূত্রটি আরও জানায়, সবশেষ ২৯ মার্চ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে আবেদন দেন এই বিচারপতি।

সূত্রটির দাবি, দুটি মামলার মধ্যে একটিতে আপিল বিভাগে আবেদন হয়। অন্যটিতে করা হয়নি। হাইকোর্টের আদেশের পর একটির ক্ষেত্রে আপিল বিভাগে করা আবেদনসূত্রে ২০১৭ সালে আবেদনকারীর (মজিবুল হক) স্ত্রীর প্রতিকার পান।

সূত্র জানায়, ২৯ মার্চ সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে দেওয়া আবেদনে বিচারপতি রেজাউল হাসান উল্লেখ করেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে, নালিশ করতে চাইলে তা ২০১৭ সালেই কাউন্সিলে করতে পারতেন অভিযোগকারী। এ ছাড়া নালিশটি চলে না বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে আবেদনটি ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এরপর এ বিচারপতি ২৯ মার্চ পদত্যাগপত্র দেন।

বিচারপতি সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে উল্লিখিত বিচারপতির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কার্যধারা শুরু হয়নি।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৫ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন রেজাউল হাসান। ১৯৮৯ সালে হাইকোর্ট বিভাগের এবং ২০০৪ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি। ২০০৯ সালের ৩০ জুন হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান রেজাউল হাসান। ২০১১ সালের ৬ জুন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।