চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগে ৭ বছরেও মাস্টার্স শেষ হয়নি, সেশনজট কমানোর দাবিতে মানববন্ধন
স্থায়ী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, সেশনজট কমানো, ফল প্রকাশসহ ছয় দফা দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
আজ সোমবার বেলা ১২টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। ওই ভবনে উপাচার্য, সহ–উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের কার্যালয় রয়েছে। পরে দুপুর আড়াইটায় উপাচার্য শিরীণ আখতারের আশ্বাসে তারা অবস্থান ত্যাগ করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো হলো—দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের প্রথম সেমিস্টার, প্রথম বর্ষের প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশ করা; ফলাফল প্রকাশের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিটি বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা; ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সব বিষয়ে ক্লাস শুরু, নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে সেশনজট কমিয়ে আনা; স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া; কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া; পর্যাপ্ত ক্লাসরুম, সেমিনার, শিক্ষা উপকরণ ও অফিস কক্ষ দেওয়া।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের যাত্রা শুরু ২০১৫ সালে। তৎকালীন উপাচার্য ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী এ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত বিভাগের স্থায়ী কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ আবুল মনছুর এই বিভাগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের একটি ব্যাচেরও স্নাতকোত্তর শেষ হয়নি। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য নিয়মিত বিভাগগুলোতে এই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন।
জানতে চাইলে ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের সভাপতি মোহাম্মদ আবুল মনছুর প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৫ সালে স্থাপিত হলেও এই বিভাগে এখন পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। বিভিন্ন বিভাগ থেকে অতিথি শিক্ষক নিয়েই বিভাগটি চলছে। নিয়োগ না হওয়ায় বিভাগের একাডেমিক কমিটিও গঠন করা যাচ্ছে না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফল আটকে আছে। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে উপাচার্য শিরীণ আখতার প্রথম আলোকে বলেন, লোকবল ছাড়াই এই বিভাগ খোলা হয়েছিল। নীতিমালার কারণে এখনো তাঁরা স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারেননি। যেহেতু সংকট রয়েছে, তাই কীভাবে জরুরিভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যায়, সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন।