পরিচিতজনেরা কী বলছেন?

রায়হান: অসংখ্য মানুষ সরাসরি দেখা করে, ফোনে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিশেষ করে উদ্যোক্তারা খুব খুশি। নিজ দপ্তরের সহকর্মীরা ছাড়াও বিভিন্ন জেলা-উপজেলার সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অভিবাদন জানিয়েছেন।

পুরস্কার কি এবারই প্রথম?

রায়হান: না। আগেও পেয়েছি।

কী পুরস্কার?

রায়হান: জনসেবায় বিশেষ অবদান রাখায় ২০১৯ সালে জাতীয় পর্যায়ে (ব্যক্তিগত শ্রেণি) জনপ্রশাসন পদক (স্বর্ণপদক) পেয়েছিলাম। ২০১৭ সালে বনিয়াদি প্রশিক্ষণে বিসিএস ক্যাডারদের মধ্যে সারা দেশে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের মাধ্যমে রেক্টর্স মেডেল (স্বর্ণপদক) পাই।

স্বপ্ন ছোঁয়ার সিঁড়ি উদ্যোগটি আসলে কী?

রায়হান: স্বপ্ন ছোঁয়ার সিঁড়ি উদ্যোগ কার্যত তরুণদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলার একটি মঞ্চ। দেশি মুরগি পালনে উদ্বুদ্ধ করে নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়া তোলা ছাড়াও মুরগির জাত সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ ও নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন নিশ্চিত করতেই স্বপ্ন ছোঁয়ার সিঁড়ি উদ্যোগটি হাতে নিয়েছিলাম। এতে ‘অর্গানিক’ পদ্ধতিতে দেশি মুরগির বাণিজ্যিক খামার স্থাপনে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়। এখন এই উদ্যোগের মাধ্যমে অনেকে কোয়েল পালন ও গরু মোটাতাজাকরণ শুরু করেছেন।

স্বপ্ন ছোঁয়ার সিঁড়ি কি শুধু দেশি মুরগির খামার স্থাপনে প্রশিক্ষণ দেয়?

রায়হান: না। শুধু প্রশিক্ষণ নয়, স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশি মুরগির মাংস ও ডিম উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণে সহযোগিতা, খামারে মুরগির রোগবালাইসহ যেকোনো সমস্যায় বিনা মূল্যে পরামর্শ ও চিকিৎসা দেওয়া হয়।

দেশি মুরগির বাণিজ্যিক খামারের চিন্তা মাথায় এল কীভাবে?

রায়হান: ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে আগে কর্মরত ছিলাম ভোলার মনপুরা উপজেলায়। ওই দ্বীপজেলায় মানুষের ঘরে পোষা মুরগিই প্রাণিজ আমিষের প্রধান উৎস। বগুড়ার শেরপুরে বদলি হয়ে আসার পর দেখি এখানে প্রচুর সোনালি ও ব্রয়লার মুরগির বাণিজ্যিক খামার আছে। কিন্তু দেশি মুরগি পাওয়াই যেত না। তখনই মাথায় দেশি মুরগির বাণিজ্যিক খামারের চিন্তা আসে।

কীভাবে এই উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়ল?

রায়হান: দেশি মুরগির বাণিজ্যিক খামারি হিসেবে তরুণদের গড়ে তুলতেই স্বপ্ন ছোঁয়ার সিঁড়ি উদ্যোগটি নিই। সেই উদ্যোগের খবর গণমাধ্যমে তুলে ধরার পর সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক বছরের মধ্যেই দেশি মুরগিতে বিপ্লব ঘটে। এখন শুধু বগুড়া জেলায়ই প্রায় ১ হাজার ২০০ দেশি মুরগির খামার রয়েছে। সারা দেশেই দেশি মুরগির বাণিজ্যিক খামার স্থাপন করা হচ্ছে।

বাড়ি কোথায়? পড়াশোনা কোথায় করেছেন?

রায়হান: আমার জন্ম টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার সরাবাড়ি গ্রামে। তিন ভাইবোনের মধ্যে আমি বড়। সরাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনায় হাতেখড়ি। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর শেষে ৩১তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০১৩ সালে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে যোগদান করি।

পরিবারে কে কে আছেন?

রায়হান: আমি, স্ত্রী ও দুই পুত্রসন্তান। সন্তানেরা পড়াশোনা করছে। স্ত্রী বিলকিস লাবণী গৃহিণী।

ভবিষ্যৎ স্বপ্ন কী?

রায়হান: শৈশব থেকেই স্বপ্ন ছিল, এমন কিছু করব, যা মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজে লাগবে। সেই স্বপ্ন পূরণেই স্বপ্ন ছোঁয়ার সিঁড়ির যাত্রা শুরু। উদ্যোগটি এগিয়ে নেব, আরও সামনের দিকে। আরও তরুণকে যুক্ত করতে চাই।