জাল সনদে চাকরি, ১৮ বছরে ‘বেতন–ভাতা’ বাবদ নেওয়া ৪২ লাখ টাকা ফেরতের নির্দেশ

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্রায় ১৯ বছর আগে চাকরি নিয়েছিলেন মোহাম্মদ গোলাম মাওলা। তাঁর দীর্ঘ এই চাকরিজীবনের ইতি ঘটেছে জাল শিক্ষাসনদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার মধ্য দিয়ে।

চাকরিচ্যুত হওয়ার পর এবার তাঁকে বড় অঙ্কের অর্থ ফেরত দিতে হবে। ২০০৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বেতন-ভাতা বাবদ নেওয়া ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা তাঁকে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাইকোর্ট বিভাগের এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। হাইকোর্ট বিভাগের সাধারণ ও সংস্থাপন শাখা ১৭ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করে। আদেশটি আজ রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক অফিস সহকারী মোহাম্মদ গোলাম মাওলার উদ্দেশে অফিস আদেশে বলা হয়, তিনি শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদের মাধ্যমে হাইকোর্ট বিভাগে অফিস সহকারী পদে চাকরি পান। চাকরি করার সময় তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা (০৯/২০২১) বিভাগীয় মামলায় সব অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এর প্রেক্ষাপটে নিয়ম অনুযায়ী চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়।

আদেশে আরও বলা হয়, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর চাকরি শুরু থেকেই বাতিল বলে গৃহীত হয়। সে হিসাবে তিনি চাকরিকালে কোনো বেতন-ভাতা পাবেন না।

২০০৭ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাকরিকালে গোলাম মাওলা মোট ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা বেতন-ভাতা বাবদ তুলে নিয়েছেন বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদেশে আরও বলা হয়, গোলাম মাওলা যেহেতু কোনো বেতন-ভাতা পাবেন না, তাই তাঁকে বেতন-ভাতা বাবদ তুলে নেওয়া ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা অটোমেটেড চালান সিস্টেমের (অনলাইনে চালান তৈরি করে নির্ধারিত প্রক্রিয়া) মাধ্যমে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে।