আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইবু৵নালের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিরীণ আকতার, এইচএম স্টিলের নির্বাহী পরিচালক মো সামসুদ্দোহা, ডা. খাস্তগীর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহেদা আকতার ও পরিচালক প্রদীপ ঘোষ।

ছাত্রীদের উদ্দেশে মেয়র রেজাউল করিম বলেন, প্রীতিলতা তোমাদের মতো ছাত্রী ছিলেন। তিনি সমগ্র ভারতকে কাঁপিয়ে দেন। বিশ্বকে জানান দেন চট্টগ্রাম বীর চট্টগ্রাম। যে যুগে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলন করেন সে যুগে মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ ছিল সীমিত। তিনি আত্মাহুতি দিয়ে দুঃসাহস দেখিয়েছেন। প্রীতিলতা, সূর্য সেনরা আমাদের গর্ব।

মেয়র আরও বলেন, ইতিহাসকে কেউ ধামাচাপা দিতে পারে না। আমরা ভুলে যেতে পারি; কিন্তু জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের ইতিহাস ভুলবে না। প্রীতিলতাদের চেতনায় সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তুলতে হবে।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, প্রীতিলতা ৯০ বছর আগে আত্মাহুতি দেন। তাঁর বাড়ি, সম্পত্তির দখল অন্যের হাতে। আজকের বাংলাদেশে নেলী সেনগুপ্তা, প্রীতিলতা ও ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ি শত্রুসম্পত্তি। এখনো তা থেকে মুক্তি মেলেনি। সেই বাস্তবতায় এ চলচ্চিত্র নির্মাণ একটি ইতিবাচক ঘটনা হয়ে থাকবে।

রানা দাশগুপ্ত আরও বলেন, ব্রিটিশ আমলের চট্টগ্রাম বীরত্বের খেতাব পেল। যখন আজ বীরদের বাড়িঘর স্মৃতি দেখতে মানুষ আসে তখন বিফল মনোরথে ফিরতে হয়। বিপ্লবীদের ইতিহাস সংরক্ষণের দায়িত্ব নিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা অনেকেই বলি। কতজন ধারণ করি, তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শিরীণ আকতার বলেন, স্বাধীনতা পেলেও বীরদের যথাযথ মর্যাদা দিতে পারিনি। প্রীতিলতা কখনো জীবনের ভয় করেননি। আমাদের তখন সব ছিল। কিন্তু আমাদের সম্পদ লুণ্ঠন করেছিল শাসকেরা।

পরিচালক প্রদীপ ঘোষ বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের একটা অন্যতম দলিল এই চলচ্চিত্র। এই চলচ্চিত্রে একদিকে সে সময়ের সাহসী বিপ্লবীদের তুলে ধরা হয়েছে। আবার অন্যদিকে কারা অন্তরীণ বিপ্লবী রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের সঙ্গে বীরকন্যার বারবার সাক্ষাৎ এবং তাঁর প্রতি দুর্বলতার কাহিনি বিন্যাস করা হয়েছে।

‘বীরকন্যা প্রীতিলতা’ চলচ্চিত্রে পরিণত বয়সের প্রীতিলতার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিশা এবং রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন মনোজ প্রামাণিক।