আইনশৃঙ্খলা, সারসংকট ও পরিবেশ নিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির উদ্বেগ

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটিছবি: ফেসবুক থেকে

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কৃষিতে সারসংকট, অটোরিকশার শ্রমিকদের হয়রানি ও উপকূলীয় পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। একই সঙ্গে ফুলবাড়ী উন্মুক্ত খনি প্রকল্প নিয়ে নতুন করে চক্রান্তের অভিযোগ তুলে এর বিরোধিতা করেছে সংগঠনটি।

আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের সভাপতিত্বে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। ওই সভায় এই উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

সভায় বক্তারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, হত্যা, ধর্ষণ, শিশু নিপীড়ন ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে। গত আগস্টে রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের বক্তব্যে অসংগতি রয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।

সভায় এসব ঘটনায় মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও অবিশ্বাস তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিটি ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা জব্দ এবং শ্রমিকদের হয়রানিরও প্রতিবাদ জানানো হয়। কমিটির সদস্যরা বলেন, বিকল্প গণপরিবহন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে শ্রমজীবী মানুষের ওপর দায় চাপানো ঠিক নয়।

কমিটির সদস্যরা রিকশার লাইসেন্স প্রদান, স্পিডমিটার স্থাপন, জোনভিত্তিক চলাচলের ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত পরিবহন নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান।

সভায় কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন ও টেকনাফের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের সমালোচনা করে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন ও স্থানীয় মানুষের মতামত ছাড়া কোনো প্রকল্প না নেওয়ার দাবি জানিয়েছে কমিটি।

এ ছাড়া রংপুর, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় আমন মৌসুমে সারসংকটের অভিযোগ তুলে ন্যায্যমূল্যে ও সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

সভায় ফুলবাড়ী গণ–অভ্যুত্থানের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত প্রচারযাত্রাকে স্বাগত জানানো হয়। একই সঙ্গে ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়ন, মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বাতিল এবং জ্বালানি ও রাষ্ট্রায়ত্ত খাতে বেসরকারীকরণ বন্ধের দাবিতে সংহতি জানানো হয়।