আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে থাকার ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশগ্রহণ ও আগ্নেয়াস্ত্র বহনের বিষয়ে আজ রোববার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি দেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাকছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশগ্রহণ ও আগ্নেয়াস্ত্র বহনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

প্রতিমন্ত্রীর দাবি, সাধারণ নাগরিকসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি গতকাল শনিবার এলাকাটিতে গিয়েছিলেন। এটি ছিল পুলিশ, স্থানীয় রাজনীতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তের কর্মসূচি। তিনি আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন।

গতকাল বিকেলে ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন–সংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। আসনটির সংসদ সদস্য ইশরাকের ফেসবুক পেজে ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে ভিডিওটি ‘ভাইরাল’ হয়। আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। আজ রোববার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ঘটনার বিষয়ে একটি বিবৃতি দেন ইশরাক।

আরও পড়ুন

বিবৃতিতে ইশরাক হোসেন জানান, তিনি ঢাকা-৬ আসনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচার অভিযোগ পাচ্ছিলেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এলাকাটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুন মাসে মাদকসংক্রান্ত এক সহিংসতায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি এলাকাটি পরিদর্শন করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেন। জনবলসংকট দূরীকরণ ও মাদকের আস্তানাসংলগ্ন স্থানে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট থানাকে আধা সরকারিপত্র (ডিও লেটার) দেন। তবে তা এখনো প্রক্রিয়াধীন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে তিনি জানতে পারেন, মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে। কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ জন হইচই করে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে আসে।

ইশরাক বলেন, ‘এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি। সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নস্যাৎ হওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়। উক্ত আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং এর প্রদর্শনী কেবলই আত্মরক্ষার স্বার্থে আইনি কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।’

আরও পড়ুন

ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরই গেন্ডারিয়া থানার পুলিশকে জানানো হয়েছে বলে জানান ইশরাক হোসেন। পুলিশের সহায়তায় সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোয় যৌথ অভিযান চালানো হয় বলেও তিনি জানান। এ সময় চার-পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়। আস্তানাগুলো থেকে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মুঠোফোন জব্দ করা হয়। ছয়জন মাদক কারবারিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়।

ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক কালবেলাসহ কয়েকটি গণমাধ্যম খণ্ডিত তথ্য ও ফটোকার্ডের মাধ্যমে অপতথ্য ও বিকৃত সংবাদ পরিবেশন করেছে। এসব সংবাদে মূলত অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ছয়জন অপরাধী আটকের ইতিবাচক দিকটি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ইশরাক।

ইশরাক তাঁর বিবৃতিতে বলেন, একটি স্পর্শকাতর ঘটনার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্যকে কেন্দ্র করে প্রচারিত ভিডিও, ফটোকার্ড ও খণ্ডিত শিরোনাম সামগ্রিক প্রেক্ষাপটকে মূল্যায়ন করে না। এর ফলে প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনমনে পরিকল্পিত বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

জনস্বার্থে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখা হবে বলে বিবৃতিতে ইশরাক জানান।