মুঠোফোন ও ইন্টারনেট শুল্ক প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

মুঠোফোন ও ইন্টারনেট–সেবার ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন। জাতীয় প্রেসক্লাব, ১২ জানুয়ারিছবি: মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সৌজন্যে।

মুঠোফোনে কথা বলা ও ইন্টারনেট–সেবার ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের কারণে টেলিযোগাযোগ খাতকে হুমকির মুখে পড়বে। গ্রাহকের স্বার্থ বিবেচনা না করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলবে। তাই সরকারকে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রতাহার করতে হবে।

আজ রোববার সকালে রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়। মুঠোফোন ও ইন্টারনেট–সেবায় নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রতিবাদে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন এ আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বেসিসের সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর বলেন, কারও সঙ্গে আলোচনা না করে নতুন করে ইন্টারনেট–সেবায় কর আরোপ একধরনের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ। নতুন করে কর বাড়ালে টেলিযোগাযোগ ইন্টারনেট–সেবা খাত হুমকির মুখে পড়বে।

গত বৃহস্পতিবার শতাধিক পণ্য ও সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (মূসক/ভ্যাট) ও সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন করহার ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে। এতে মুঠোফোনের সিম বা রিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৩ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট–সেবায় ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্কও বসানো হয়েছে।

মুঠোফোনে ১০০ টাকা রিচার্জ করে কথা বললে এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করলে সরকার আগে নিত ২৮ টাকা। এখন নিচ্ছে প্রায় ৩০ টাকা। বাসায় যাঁরা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তাঁদের ৫০০ টাকা বিলের ওপর মোট করভার সাড়ে ৭৭ টাকা দাঁড়িয়েছে, আগে যা ছিল ২৫ টাকা।

আরও পড়ুন

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম ও আইআইজির সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, ব্রডব্যান্ডে নতুন করে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক যুক্ত করায় গ্রাহকের ভোগান্তি যেমন বাড়বে, একইভাবে এই সেবা খাত ধ্বংস হয়ে যাবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে সরকারকে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গ্রাহকের স্বার্থ বিবেচনা না করে, কারও সঙ্গে আলোচনা না করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে নতুন করে বৈষম্য সৃষ্টি করল।

মানববন্ধনের আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সাবেক পরিচালক খালিদ আবু নাসের, আইএসপিএবির সভাপতি ইমদাদুল হক, পাঠাওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম আহমেদ, প্রযুক্তিবিদ ফিদা হক প্রমুখ।