নৈতিকতা কমিটির সদস্যরা জানান, পুরস্কার দেওয়ার জন্য সব অনুষদে, বিভাগে ও প্রশাসনিক দপ্তরে বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর বিভিন্ন দপ্তর থেকে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নাম আসবে। পরে যাচাই-বাছাই কমিটি পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম মনোনীত করবে। আর নৈতিকতা কমিটি নামগুলো পুরস্কারের জন্য অনুমোদন করবে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নৈতিকতা কমিটির অনুমোদন ছাড়া তিনজনকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। কমিটির কোনো সভাই হয়নি। অথচ ২৯ মে প্রকাশিত পুরস্কার ঘোষণার অফিস আদেশে বলা হয়, যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশ ও নৈতিকতা কমিটির অনুমোদনের মাধ্যমে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এটি মিথ্যাচার। এ ছাড়া যাচাই–বাছাই কমিটিও কোনো পর্ষদ থেকে অনুমোদিত হয়নি। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৭ মার্চ যাচাই-বাছাই কমিটি গঠিত হয়। কমিটির সভাপতি ছিলেন উপাচার্য শিরীণ আখতার।

অন্যদিকে এস এম মনিরুল হাসান একজন শিক্ষক। তিনি ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। আবার যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্যসচিবও তিনি। গ্রেড ২ থেকে ৯ ক্যাটাগরিতে তাঁর এ পুরস্কারপ্রাপ্তি কতটুকু নৈতিক, সে প্রশ্ন তুলেছেন নৈতিকতা কমিটির তিন সদস্য। চিঠিতে তাঁরা বলেন, কোনোভাবেই এস এম মনিরুল হাসানকে রেজিস্ট্রার পদে স্থায়ী কর্মকর্তা ও কর্মচারী ভাবার সুযোগ নেই। কারণ, তিনি একজন শিক্ষক। রেজিস্ট্রার ক্যাটাগরিতে শুদ্ধাচার পুরস্কারের যোগ্যতাসূচক শিক্ষকতা নয়।

জানা গেছে, সরকারি কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের শুদ্ধাচারচর্চায় উৎসাহ দেওয়ার জন্য শুদ্ধাচার পুরস্কার দেয় সরকার। পুরস্কার হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্ধারিত ফরম্যাটে একটি সনদ, একটি ক্রেস্ট ও এক মাসের মূল বেতনের সমান টাকা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের গ্রেড-২ থেকে ৯, ১০ থেকে ১৬ এবং ১৭ থেকে ২০ পর্যন্ত মোট ৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এ পুরস্কার পান। পুরস্কারের জন্য ১০টি সূচক রয়েছে। এ সূচকের মোট নম্বর ১০০। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ৮০ পেলেই পুরস্কারের যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়।

যা বললেন তাঁরা

চিঠির বিষয়ে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন সিরাজ উদ দৌল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নিয়ম অনুসরণ না করেই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে এ পুরস্কার বাতিল করতে হবে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরে পুরস্কার দিতে হবে। এ ছাড়া শুদ্ধাচার নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে। মূলত এ লক্ষ্যেই তাঁরা চিঠি দিয়েছেন।

কোন প্রক্রিয়ায় পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, নম্বর কীভাবে দেওয়া হয়েছে, তা জানতে গত দুই মাসে ১০ বার উপাচার্য শিরীণ আখতারের কার্যালয়ে গিয়েও তাঁর সাক্ষাৎ পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার গেলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে শুদ্ধাচার কমিটির সদস্য সহ-উপাচার্য বেনু কুমার দে প্রথম আলোকে বলেন, কমিটির সভাপতি ছিলেন উপাচার্য শিরীণ আখতার। শুধু তাঁর কাছে এসব তথ্য রয়েছে।

কমিটির সদস্যসচিব হয়েও পুরস্কার নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে  ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম মনিরুল হাসান বলেন, তাঁকে কমিটির অন্য সদস্যরা মনোনীত করেছিলেন। নিজের বেলায় তিনি কোনো মতামত দেননি। তবে ১০০ নম্বরের মধ্যে কত পেয়েছেন, কোন সূচকে কত, তা তিনি প্রকাশ করতে চাননি।

যাচাই–বাছাই কমিটির সদস্য হয়েও পুরস্কার নেওয়ার বিষয়টি পাত্রীকে ঘটকের বিয়ে করার মতো ব্যাপার বলে মনে করেন টিআইবি–সনাক চট্টগ্রামের সভাপতি আখতার কবির চৌধুরী। তিনি বলেন, নিয়ম না মেনে পুরস্কার দেওয়াটা দুঃখজনক। এর ফলে শুদ্ধাচার পুরস্কার দেওয়ার উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে।