সাংবাদিকতার মান রক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিতের আহ্বান কামাল আহমেদের

সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদছবি: প্রথম আলো

সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ। তিনি বলেছেন, ‘আমরা আমাদের জন্য যেমন দায়িত্ব পালন করব নিজেদের সুরক্ষার জন্য...এই সরকার চলে যাবে, নতুন যে দল আসবে, রাজনৈতিক দল যে দলই হোক, সেটা জাতীয় সরকার হোক বা একক সরকার হোক, আমরা তাদের কাছ থেকেও সেই সুরক্ষা আদায়ের জন্য সংগ্রামটা চালিয়ে যাব।’

সাংবাদিকতার কোড অব কনডাক্ট বা আচরণবিধির ওপর গুরুত্বারোপ করে কামাল আহমেদ বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই সাংবাদিকতার মানটা বজায় রাখার প্রশ্নে আপস হচ্ছে বা মানটা রক্ষা করা যাচ্ছে না। এটা রক্ষা করতে না পারার পেছনে অনেকগুলো কারণ আছে। সেই কারণগুলো দূর করতে হবে। এ জন্য সাংবাদিকতার কোড অব কনডাক্ট বা আচরণবিধি করার ওপর জোর দেন তিনি।

জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিক বলেন, ‘এ শিল্পে যত দ্রুত সম্ভব এ ধরনের আচরণবিধি নিয়ে আসতে পারি, অনুসরণ করতে পারি, প্রয়োগ করতে পারি; তত দ্রুত এই সাংবাদিকতার মান বাড়াতে পারব। এর মধ্য দিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ের যে অবমূল্যায়ন হচ্ছে, অবমাননা হচ্ছে, সেটা বন্ধ করা সম্ভব হবে। এদিকটাই গুরুত্ব দিতে হবে।’

মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সংঘটিত হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে আয়োজিত ‘গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬’-এ কামাল আহমেদ এ কথা বলেন। আজ শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের (কেআইবি) মিলনায়তনে যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ।

কামাল আহমেদ বলেন, ‘আমরা সাংবাদিকেরা অনেক সময় একাধিক হ্যাট পরিধান করি। কখনো আমরা পার্টটাইম রাজনীতিবিদ। কখনো পার্টটাইম ঠিকাদার। কখনো পার্টটাইম শিক্ষক,...সাংবাদিকতার পেশাটা অনেক সময় ওখানে যথাযথভাবে প্রতিনিধিত্ব করা হয় না।’

সাংবাদিকদের রাজনৈতিক পরিচয়সহ একাধিক পরিচয় থাকার ফলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় উল্লেখ করে সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান বলেন, ‘এই যে দ্বৈত চরিত্রের মিশ্রণের ফলে বিপদটা হয়, দূষণ হয়—এই দূষণ থেকেও মুক্তি দরকার। সে ক্ষেত্রে একটা স্ট্যান্ডার্ড, কোড অব এথিকস আলোচনা হচ্ছে। এটি যদি হয়, তাহলে একটি বড় অগ্রগতি হবে।’

গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার প্রসঙ্গে কামাল আহমেদ বলেন, ‘সাংবাদিক সুরক্ষার জন্য আমরা একটা সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের সুপারিশ করেছিলাম সংস্কার কমিশন থেকে এবং এই সুরক্ষা আইনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন সবাই। আমার তো মনে হয় না যে কেউ এই সুরক্ষা আইনের বিরোধিতা করেছেন। আমি যতটুকু শুনেছি, সম্পাদক পরিষদ, মালিকদের সংগঠন এবং এই শিল্পের বিভিন্ন ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সবাই এই সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন।’

আরও পড়ুন

সরকারের পক্ষ থেকে অঙ্গীকার থাকলেও এখনো আইনটি না হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে কামাল আহমেদ বলেন, ‘আমরা সুপারিশ জমা দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত যতজন সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী দেশের বিভিন্ন স্থানে আক্রান্ত হয়েছেন, যেসব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান আক্রমণের শিকার হয়েছে, এর দায়দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। কারণ, তারা অঙ্গীকার করেও সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেনি, সুপারিশের বিষয়টিকে শিকেয় তুলে রেখেছে।’

সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলে জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিক বলেন, ‘গণতন্ত্রে গ্রেপ্তার কোনো ভাষা হতে পারে না। গণতন্ত্র হবে যুক্তির কথা, বিতর্কের কথা, আলোচনা মধ্য দিয়ে একটা সমঝোতা বা একটা পথ খুঁজে নেওয়ার প্রশ্ন।’

নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের সব সদস্য, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, জাতীয় প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম, ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা এবং ঢাকার বাইরে কর্মরত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সম্পাদক-প্রকাশকেরা সম্মিলনে উপস্থিত হন। দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার জন্য একসঙ্গে দাঁড়ানোর এ আয়োজনে এসেছিলেন গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও কলাম লেখকেরাও।