গোলাম রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির সভায় বলা হয়েছে, ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি সর্বসম্মতিক্রমে হয়েছে। কিন্তু এ তথ্য সঠিক নয়। সেখানে ক্যাবের প্রতিনিধি আপত্তি জানালেও সেটি গ্রহণ করা হয়নি। চিকিৎসকদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার কারণে ওষুধের দাম বাড়ছে। ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির এ অনৈতিক চর্চা বন্ধ করতে হবে। ওষুধ কোম্পানিগুলো নিজেদের মনমতো দাম বাড়ানোর কারণে মূল্যস্ফীতি চাঙা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ওষুধ কোম্পানিগুলো কিছু চিকিৎসকের মাধ্যমে তাদের ওষুধ রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে লেখায়। বিনিময়ে তারা ওই চিকিৎসকদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে থাকে। চিকিৎসকদের পেছনে যে অর্থ খরচ হয়, তা ভোক্তাদের কাছ থেকে তোলা হয়। যা সম্পূর্ণ অনৈতিক।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ক্যাবের কোষাধ্যক্ষ মনজুর ই খোদা তরফদার। তিনি বলেন, সরেজমিনে ফার্মেসিতে খুচরা ওষুধের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এসব ওষুধের দাম গত ছয় মাসের ব্যবধানে ১৩ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। গত ছয় মাসের ব্যবধানে শুধু প্যারাসিটামল সিরাপের দাম বেড়েছে ৭৫ শতাংশ। এ ছাড়া গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ, অ্যান্টিবায়োটিক, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধের দাম বেড়েছে ১৩–৩৩ শতাংশ।

ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—
১.
ইতিমধ্যে প্যারাসিটামলসহ বিভিন্ন ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল–জাতীয় ওষুধের দাম বেড়েছে। আইভি ফ্লুইড–জাতীয় ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি প্রক্রিয়াধীন। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে ওষুধের মূল্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত কমিটি দিয়ে পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানানো হয়। পুনর্বিবেচনা না হওয়া পর্যন্ত আইভি ফ্লুইড–জাতীয় ওষুধসহ অন্যান্য ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির প্রক্রিয়া স্থগিত করার দাবি করা হয়।
২.
১৯৯৪ সালের কালো আদেশটি বাতিল করতে হবে। ওই আদেশের কারণে কোম্পানিগুলো যখন–তখন ওষুধের দাম বাড়াচ্ছে। এখন ডলারের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে তালিকাভুক্ত ওষুধের দাম বাড়িয়ে নিচ্ছে।
৩.
ওষুধের কাঁচামাল এবং অন্যান্য ওষুধ আমদানিতে মার্ক-আপ কমিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। আইভি ফ্লুইড–জাতীয় ওষুধের মার্ক-আপ ছিল ৩ দশমিক ৪। মার্ক-আপ কমানো গেলে ওষুধের দাম কমে আসবে।

৪.
আমদানি করা ওষুধে মার্ক-আপ কমাতে হবে।
৫.
সরকারকে ভর্তুকি দিয়ে ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
৬.
স্যালাইন তৈরি ও বাজারজাতকরণ সরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট বা আইপিএইচের মাধ্যমে করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুনকবির ভূঁইয়া। এ ছাড়া আরও বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অধ্যাপক শামসুল আলম, সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মিজানুর রহমান, ক্যাব ঢাকা জেলার সভাপতি ব্রিগেডিয়ার শামস খান ও ভোক্তা কণ্ঠের সম্পাদক কাজী আবদুল হান্নান।