শেষ কর্মদিবসে বাড়ি ফিরতে কমলাপুরে হুড়োহুড়ি
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির আগে শেষ কার্যদিবস আজ সোমবার। গত দুই দিনের তুলনায় আজ রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে। ঘরমুখো মানুষের অনেকে স্টেশনে ছুটছেন ট্রেন ধরতে।
সরেজমিন আজ দুপুরে কমলাপুর রেলস্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ঘুরে মানুষের ভিড় দেখা যায়। হাতে মালপত্র, কারও সঙ্গে ছোট শিশু—সব মিলিয়ে উৎসবের আগে ঘরে ফেরার এক ব্যস্ত চিত্র। অনেকেই প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে বা বসে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন।
হঠাৎই মাইকে ট্রেন আসার কিংবা ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। অনেকে তড়িঘড়ি করে নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। কেউ আবার মালপত্র গুছিয়ে পরিবার-পরিজনকে নিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। ট্রেন প্ল্যাটফর্মে ঢুকতেই যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি লেগে যাচ্ছে।
৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে হলো ব্যাংক কর্মকর্তা আয়াতুল্লাহর সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ শেষ অফিস ছিল। আগেভাগে অফিস থেকে বেরিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছি। ছেলেমেয়েদের স্কুল ছুটি হওয়ায় আগেই পাঠিয়ে দিয়েছি।’
একই প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষায় থাকা বেসরকারি চাকরিজীবী আল-আমিন বলেন, ‘আমাদের অফিস খোলা রয়েছে। আমি ছুটি নিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। সারা বছর তো কাজ করি। ঈদের সময়টা শুধুই পরিবারের জন্য।’
শেষ কর্মদিবসে গত তিন দিনের চেয়ে স্ট্যান্ডিং টিকিটের যাত্রীও বেড়েছে। ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্ম থেকে ছেড়ে যাওয়া রাজশাহীগামী সিল্ক সিটি এক্সপ্রেসে উঠতে অনেক যাত্রীকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ সময় একজন যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘বাড়িতে তো সবাই যাবে। কিন্তু আমরা যাঁরা টিকিটের যাত্রী, তাঁদের উঠতে তো দেবে।’
শেষ কর্মদিবসে সড়কে যানজট হতে পারে ভেবে আগেভাগে স্টেশনে চলে এসেছেন কেউ কেউ। তাঁদেরই একজন সায়েদ আবদুল্লাহ। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘আমার বাসা মোহাম্মদপুর। আজ রাস্তায় যানজট থাকবে জানি। এ জন্য আগে চলে এসেছি।’