দেশের নারী–শিশুরা কোথাও এখন পুরোপুরি নিরাপদ নয়: মহিলা পরিষদ

সারা দেশে নারীর প্রতি অব্যাহত সহিংসতা, ধর্ষণ, হত্যা ও শিশুহত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মানববন্ধন করে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে, ঢাকা, ১৬ আগস্টছবি: আয়োজকদের সৌজন্যে

এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ১ হাজার ৬৬৭ নারী ও শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ২৯২ নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের নারী ও শিশুরা এখন কোনো জায়গায় যে পুরোপুরি নিরাপদ নয়, তা স্পষ্ট। তবে নারীদের ভয় দেখিয়ে ঘরে আবদ্ধ করে রাখা যাবে না। নারীরা তাদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত থাকবে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে আজ রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা এ কথা বলেন। সারা দেশে নারীর প্রতি অব্যাহত সহিংসতা, ধর্ষণ, হত্যা ও শিশুহত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সব জেলা শাখায় আজ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, ‘আমরা যে তথ্য পাচ্ছি, তা মূলত ১৪টি পত্রিকার তথ্যের ভিত্তিতে পাওয়া চিত্র। নারীর প্রতি সহিংসতার প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশে নারীর নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার কতটা নিশ্চিত?’ তিনি আরও বলেন, নারীসহ সমাজের সব মানুষের মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং বৈষম্য দূর করার কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নারীদের ভয় দেখিয়ে ঘরে ফেরানো যাবে না। নারীরা তাদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত থাকবে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, গত সাত মাসে ১ হাজার ৬৬৭ নারী ও শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় স্পষ্ট হয়, বাংলাদেশের নারী ও শিশুরা আজ কোনো জায়গায় পুরোপুরি নিরাপদ নয়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সহিংসতার প্রবণতা কমানো যাচ্ছে না। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচারব্যবস্থা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজসহ প্রত্যেক নাগরিককে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদা রেহানা বেগম, আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি, ঢাকা মহানগর কমিটির লিগ্যাল এইড সম্পাদক শামীমা আফরোজ আইরীন, সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগর ও কেন্দ্রীয় কমিটির লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি পরিচালক দীপ্তি শিকদার। কর্মসূচি পরিচালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির নেটওয়ার্কিং ও অ্যাডভোকেসি পরিচালক জনা গোস্বামী।

কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকর্তারা। বক্তারা বলেন, নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতা সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে। দেশ আজ ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। দেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যেকোনো সহিংসতার ঘটনায় নারীকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়। প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক বৈষম্যমূলক রীতিনীতি নারীকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে না।

নারীর প্রতি অব্যাহত সহিংসতা, ধর্ষণ, হত্যা ও শিশুহত্যা প্রতিরোধে ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধারে বক্তারা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি আইনের সঠিক প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।