দেশে অনেক সমস্যা, আর সেখানেই নতুন ব্যবসার সুযোগ: ইওয়ার মেহবুব

প্রথম আলো ডটকম ও প্রাইম ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত পডকাস্ট শো ‘লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ: সিজন–৩’–এর প্রথম পর্বে অতিথি হিসেবে অংশ নেন হেলথটেক প্ল্যাটফর্ম ‘আরোগ্য’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ইওয়ার মেহবুব (বাঁয়ে)ছবি: প্রথম আলো
তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ব্যবসা ও সম্ভাবনার গল্প। তবে একটি উদ্যোগ শুরু করা থেকে সেটিকে টিকিয়ে রাখা ও এগিয়ে নেওয়ার পথ সহজ নয়। নানা চ্যালেঞ্জ, সিদ্ধান্ত ও শেখার অভিজ্ঞতা পেরিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা কীভাবে গড়ে তুলছেন নিজেদের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান—সেই সব গল্প নিয়েই প্রথম আলো ডটকম ও প্রাইম ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ পডকাস্ট শো ‘লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ: সিজন–৩’। এই পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হকের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন হেলথটেক প্ল্যাটফর্ম ‘আরোগ্য’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ইওয়ার মেহবুব

‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় নকল ওষুধ, চিকিৎসকের কাছে সীমিত প্রবেশাধিকার এবং ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেবার সহজলভ্যতার মতো বেশ কিছু মৌলিক সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার প্রয়োজন রয়েছে। জীবনে কোনো একটি বড় সমস্যা সমাধানের সুযোগ পেলে স্বাস্থ্যসেবা খাতেই কাজ করতে চাই।’

পডকাস্টে অংশ নিয়ে কথাগুলো বলেন ইওয়ার মেহবুব। পর্বটি প্রচারিত হয় গত শনিবার প্রথম আলোর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে।

পডকাস্টের শুরুতেই সঞ্চালক জানতে চান, পড়াশোনার জন্য দীর্ঘ বছর বিদেশে ছিলেন। বাংলাদেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত কীভাবে নিলেন? ইওয়ার মেহবুব বলেন, ‘২০০১ সালে আমি পড়াশোনার জন্য যুক্তরাজ্যে যাই। সেখানে ব্যবসা ও কম্পিউটিং নিয়ে পড়াশোনা করি। পরে ব্যাংকিং খাতে ক্যারিয়ার শুরু করি। তখন ব্যাংকিং ছিল বড় একটি ক্ষেত্র এবং অনেকেই এই খাতে ক্যারিয়ার গড়তে চাইতেন। রয়্যাল ব্যাংক অব স্কটল্যান্ডে কাজ করার পর ২০০৭-০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় ব্যাংকিং খাতের বড় পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করি। পরে বার্কলেস ও এইচএসবিতেও কাজ করি। এরপর যুক্ত হই কনসাল্টিংয়ের সঙ্গে।’

প্রসঙ্গক্রমে সঞ্চালক জানতে চান, এত বছর বিদেশে কাজ করার পর বাংলাদেশে ফেরার পেছনে মূল কারণ কী ছিল?

ইওয়ার মেহবুব বলেন, ‘আমার একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু বাংলাদেশে ফিরে এসে নিজের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের কাজে লাগানোর জন্য উৎসাহিত করেন। শুরুতে বাংলাদেশে কীভাবে কাজ করতে হবে বা ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে, সে বিষয়ে আমার স্পষ্ট ধারণা ছিল না। তবে বন্ধুর ধারাবাহিক উৎসাহে দেশে ফিরে কাজ শুরু করি। আমার সেই বন্ধুটি সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন এবং টমসন রয়টার্সের সঙ্গেও কাজ করেছেন। ইসলামি অর্থায়নের ক্ষেত্রেও তাঁর অভিজ্ঞতা ছিল। পরে তাঁর মাধ্যমেই বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের স্টার্টআপ নিয়ে আমার কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়।’

বাংলাদেশে ফিরে স্বাস্থ্যসেবা খাতেই কেন কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলেন—সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ইওয়ার মেহবুব বলেন, ‘এর পেছনে রয়েছে আমার ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতা। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় বাংলাদেশে আমার পরিবারের একজন ঘনিষ্ঠ সদস্য সঠিক চিকিৎসার অভাবে মারা যান। ঘটনাটি ছিল খুবই কষ্টদায়ক। তখন উপলব্ধি করি, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় বেশ কিছু মৌলিক সমস্যা রয়েছে। এর পর থেকেই স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করার একটি লক্ষ্য তৈরি হয়।’

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বর্তমান সমস্যাগুলো নিয়ে জানতে চাইলে ইওয়ার মেহবুব বলেন, নকল ওষুধ একটি বড় সমস্যা। চিকিৎসকের কাছে মানুষের প্রবেশাধিকারও সীমিত। একজন চিকিৎসকের কাছে বিপুলসংখ্যক রোগী আসায় সবার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ল্যাব ও রোগনির্ণয় সেবা থাকলেও সেগুলোর প্রাপ্যতা এবং মানুষের কাছে সহজে পৌঁছানোর সুযোগ নিয়েও সমস্যা রয়েছে। তাই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য করা প্রয়োজন।

প্রসঙ্গক্রমে সঞ্চালক জানতে চান, এই সমস্যাগুলো সমাধানে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে?

উত্তরে ইওয়ার মেহবুব বলেন, প্রযুক্তি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। অন্য দেশগুলো যেভাবে ধাপে ধাপে এগিয়েছে, প্রযুক্তির কারণে বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে সেই ধাপগুলো পেরিয়ে দ্রুত সামনে এগিয়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এরপর সঞ্চালক জানতে চান, স্বাস্থ্যসেবা খাতে কাজ করার জন্য আপনার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত হয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে পরিচয় কীভাবে?

ইওয়ার মেহবুব বলেন, তাঁদের একেকজনের গল্প একেক রকম। কেউ যুক্তরাজ্যে কাজ করেছেন, কেউ স্থানীয়ভাবে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করেছেন, আবার কেউ সাবেক মেরিন কর্মকর্তা। একজন নিজে কোডিং শিখেছেন এবং প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। অন্যদিকে, আরেকজনের মধ্যে উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করার প্রবল আগ্রহ ও উদ্যম রয়েছে। আমার একজন বন্ধুর মাধ্যমে তাঁদের সঙ্গে পরিচয় হয়। তাঁরা আগে থেকেই একটি অ্যাপ নিয়ে কাজ করছিলেন। সেটির প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা দেখে মনে হয়, এখান থেকে আরও নতুন কিছু করা সম্ভব।

সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করাই আমাদের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ওষুধের দোকান, পরীক্ষাগার এবং চিকিৎসকের পরামর্শের মতো সেবাগুলোকে একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে
ইওয়ার মেহবুব, হেলথটেক প্ল্যাটফর্ম ‘আরোগ্য’র সহপ্রতিষ্ঠাতা

এরপর সঞ্চালক জানতে চান, স্টার্টআপ শুরু করার পর অর্থায়নের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

এর উত্তরে ইওয়ার মেহবুব বলেন, ‘প্রথম দিকে পুঁজি বা প্রাথমিক বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়। বন্ধু ও পরিবারের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি অ্যাঞ্জেল বিনিয়োগকারী এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করি আমরা। শুরুতে কর্মী সংখ্যা ছিল মাত্র কয়েকজন। তিন থেকে চার মাসের মধ্যে আয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। বিক্রয় বা মোট লেনদেনও ৫০ থেকে ৬০ হাজার ডলারের পর্যায়ে চলে আসে। তখন আমরা বুঝতে পারি, ব্যবসাটির সামনে বড় সম্ভাবনা রয়েছে।’

একজন অভিজ্ঞ ব্যাংকার হিসেবে ভেঞ্চার ক্যাপিটালের জগতে এসে কী শিখেছেন—সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ইওয়ার মেহবুব বলেন, ব্যাংকিং ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি জগৎ। ব্যাংকিংয়ে কোনো প্রতিষ্ঠানের বর্তমান আয়, আয়ের ধারা ও নগদ অর্থপ্রবাহের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভেঞ্চার ক্যাপিটালের ক্ষেত্রে একটি কোম্পানি পাঁচ বছর পর কোথায় যেতে পারে, সেটি কী হতে পারে—সেই সম্ভাবনাকে মূল্যায়ন করা হয়। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে কীভাবে হিসাব ও পরিকল্পনার মধ্যে আনা যায়, সেটি নতুন করে শিখতে হয়েছে আমাকে।’

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল থেকে বিনিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও সম্পর্ক তৈরির গুরুত্ব প্রসঙ্গে ইওয়ার মেহবুব বলেন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগ অনেকটাই পরিচিতি ও যোগাযোগের ওপর নির্ভর করে। পরিচিত কারও মাধ্যমে কোনো বিনিয়োগকারীর সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা, নিজের ব্যবসার ধারণা উপস্থাপন করা এবং সীমিত সময়ে বিনিয়োগকারীর মনোযোগ আকর্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি উপস্থাপন, প্রশ্নোত্তর এবং সম্পর্ক তৈরি করাও এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

একজন পড়াশোনা ছেড়ে সফল হয়েছেন বলেই সবাই সফল হবেন—এমনটা নয়। জাকারবার্গ একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। কারও অসাধারণ কোনো ব্যবসায়িক ধারণা থাকলে এবং সেটি বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেওয়া প্রয়োজন হলে সেটি আলাদা বিষয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়াকে সফলতার সাধারণ পথ হিসেবে দেখা উচিত নয়
ইওয়ার মেহবুব, হেলথটেক প্ল্যাটফর্ম ‘আরোগ্য’র সহপ্রতিষ্ঠাতা

তরুণ উদ্যোক্তাদের ক্যারিয়ারে চাকরির অভিজ্ঞতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ—এমন প্রশ্নের উত্তরে ইওয়ার মেহবুব বলেন, বাস্তব কর্মজীবন থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা শেখা যায়। যোগাযোগ দক্ষতা, দলের সঙ্গে কাজ করা, পেশাগত ই-মেইল লেখা—এসব দক্ষতা চাকরির মাধ্যমে তৈরি হয়। ইওয়ার মেহবুবের মত, এই দক্ষতার মূল্য অনেক বেশি। তাই ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও চাকরির অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হওয়ার অনেক উদাহরণ রয়েছে। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের প্রসঙ্গ টেনে ইওয়ার মেহবুব বলেন, একজন পড়াশোনা ছেড়ে সফল হয়েছেন বলেই সবাই সফল হবেন—এমনটা নয়। জাকারবার্গ একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ। কারও অসাধারণ কোনো ব্যবসায়িক ধারণা থাকলে এবং সেটি বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেওয়া প্রয়োজন হলে সেটি আলাদা বিষয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়াকে সফলতার সাধারণ পথ হিসেবে দেখা উচিত নয়।

দুই দশকের বেশি সময় বিদেশে থাকার পর বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশকে কীভাবে দেখেন—সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ইওয়ার মেহবুব বলেন, বাংলাদেশের সামনে যেমন অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনি রয়েছে অনেক সুযোগ। দেশে অনেক সমস্যা সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে। আর এসব সমস্যাই নতুন ব্যবসা ও উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ তৈরি করছে। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীও একটি বড় সুবিধা। দেশের বড় একটি অংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। ভবিষ্যতে এই জনগোষ্ঠী দেশের আয়-উৎপাদনকারী শক্তিতে পরিণত হবে।

বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশের বড় চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে ইওয়ার মেহবুব বলেন, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও নিয়ম মেনে চলার বিষয়টি অন্যতম বড় সমস্যা। জটিল করব্যবস্থা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং অর্থায়নের উচ্চ খরচ উদ্যোক্তাদের জন্য বড় বাধা।

ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে অর্থায়ন পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে। অনেক সময় ঋণের দায় উদ্যোক্তার ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে আসে। এতে উদ্যোক্তারা ঝুঁকি নিতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, উদ্যোক্তাদের ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। কারণ, ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ না থাকলে মানুষ নতুন কিছু করার ঝুঁকি নিতে চাইবে না। ব্যবসা শুরু করার পথও সহজ করতে হবে। একজন উদ্যোক্তা বড় অফিসের খরচ বহন করতে না পারলে নিজের বাড়ি বা গ্যারেজ থেকেও ব্যবসা শুরু করতে পারার সুযোগ থাকা উচিত। ব্যাংক হিসাব খোলা, ব্যবসার অনুমতিপত্র পাওয়া এবং ব্যবসা শুরু করার মতো বিষয়গুলো সহজ করা প্রয়োজন।

বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে কী করা প্রয়োজন—সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ইওয়ার মেহবুব বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। দেশে আসা, ব্যবসা শুরু করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। একটি এককেন্দ্রিক সেবাব্যবস্থা, সহজ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং কার্যকর আইনি কাঠামো থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

আলোচনার শেষ পর্যায়ে নিজের কাজের মূল লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ইওয়ার মেহবুব বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করাই আমাদের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ওষুধের দোকান, পরীক্ষাগার এবং চিকিৎসকের পরামর্শের মতো সেবাগুলোকে একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একজন মানুষ যেন প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন ধাপ সহজে একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে পেতে পারেন—সেটিই আমাদের লক্ষ্য।’

সবশেষে সঞ্চালক জানতে চান, পাঁচ বছর পর আপনি ‘আরোগ্য’কে কোথায় দেখতে চান?

ইওয়ার মেহবুব বলেন, ‘প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় অন্যতম প্রধান অবদানকারী হয়ে উঠতে চাই আমরা। স্বাস্থ্যসেবার একটি মৌলিক সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ও উদ্যোক্তা উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা আরও সহজে পৌঁছে দিতে চাই।’