মানহানির মামলায় আগাম জামিন পেলেন সংসদ সদস্য আমির হামজা
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগে করা মামলায় আগাম জামিন পেয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আমির হামজা।
আগাম জামিন চেয়ে আমির হামজার করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার এ আদেশ দেন।
ওই মামলায় জামিনের জন্য আজ আদালতে উপস্থিত হন আমির হামজা। তাঁর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান নজরুল।
পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির প্রথম আলোকে বলেন, আট সপ্তাহ অথবা ওই মামলার বিচার শেষ হওয়া পর্যন্ত আমির হামজাকে আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কেন তাঁকে নিয়মিত জামিন দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন।
গত ২৬ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানিয়ে একটি বক্তব্য দেন। সেই বক্তব্যকে ঘিরে পরে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে আলোচনায় তাঁকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলে মন্তব্য করেন সংসদ সদস্য আমির হামজা।
ওই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ২ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ জেলা দায়রা ও জজ আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে ওই মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, সিরাজগঞ্জের কৃতী সন্তান ইকবাল হাসান মাহমুদকে নাস্তিক বলে অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছেন আমির হামজা। সেই সঙ্গে তিনি ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যও করেছেন। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ২৯৬, ৫০০ ও ৫০৪ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আমির হামজাকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। তবে তিনি নির্ধারিত তারিখে অধস্তন আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাঁর প্রতি ২১ এপ্রিল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক। এই মামলায় জামিন চেয়ে গতকাল হাইকোর্টে আবেদন করেন আমির হামজা।