দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে দ্বিচারিতা পরিহারের তাগিদ নূরুল কবীরের

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সম্পাদক পরিষদ ও নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্য দেন নূরুল কবীর। ৩ মেছবি: প্রথম আলো

গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা আরও কার্যকর করতে সরকার ও সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংলাপ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে দ্বিচারিতা পরিহারেরও তাগিদও দিয়েছেন তিনি।

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সম্পাদক পরিষদ ও নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন নূরুল কবীর। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। প্রতিবছর ৩ মে পালিত হয় ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে বা বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন: মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার।’

নূরুল কবীর বলেন, বিশ্বব্যাপী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম গণতান্ত্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—বিষয়টি সমাজে আরও সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

সভায় উপস্থিত তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে নূরুল কবীর বলেন, অতীতে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলো ‘দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা’র কথা বললেও বিরোধী দলে গেলে ভিন্ন অবস্থান নেয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।

সম্পাদক পরিষদের এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার দীর্ঘ আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় জনগণের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নূরুল কবীর বলেন, নতুন করে কমিশন বা আইন প্রণয়নের আশ্বাসের বদলে অতীতের বিভিন্ন কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপে বসার আগে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণাভিত্তিক প্রস্তুতি থাকার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন নোয়াব সভাপতি ও মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সাবেক গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী, সময়ের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম ও সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম। সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ আলোচনা সভায় সঞ্চালনা করেন।