হাইকোর্টের রুল
জাতীয় পার্টিসহ গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ কেন অবৈধ নয়
জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এবং জাতীয় পার্টির একাংশ (আনিসুল ইসলাম মাহমুদ) ও জাতীয় পার্টির (জেপি) আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জোট জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) প্রার্থীদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রশ্নে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ রুল দেন।
জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এবং জাতীয় পার্টির (একাংশ) ও জেপির আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএফের প্রার্থীদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার নির্দেশনা চেয়ে ৪ জানুয়ারি রিটটি করা হয়।
আবদুল্লাহ আল মাহমুদ রিটটি করেন। তিনি রিটে নিজেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রিটের ওপর ৭ জানুয়ারি শুনানি নিয়ে আদালত ১১ জানুয়ারি (আজ) পর্যন্ত বিষয়টি স্ট্যান্ডওভার (মুলতবি) রাখেন। এর ধারাবাহিকতায় আদালতের আজকের কার্যতালিকায় আবেদনটি ২১ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
এর আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে গত বছরের ১২ মে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই প্রজ্ঞাপনের প্রসঙ্গ রিটে উল্লেখ করা হয়।
রিটের প্রার্থনা অনুযায়ী, গত বছরের ১২ মের প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন করে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এবং জাতীয় পার্টির (একাংশ) ও জেপির নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএফের প্রার্থীদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ কেন অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছিল।
জাতীয় পার্টি (এরশাদ) এবং জাতীয় পার্টির (একাংশ) ও জেপির নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএফ এবং আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও এর জোটের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দাখিল করা সব মনোনয়নপত্র বাতিল করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছিল রিটে।
রিট আবেদনকারীর আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির প্রথম আলোকে বলেন, রিটে যেভাবে রুল চাওয়া হয়েছিল, সেভাবে রুল হয়েছে। আইনসচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, জাতীয় পার্টির (এরশাদ) পক্ষে মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী, এনডিএফের আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুসহ বিবাদীদের দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত ২৬ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৪৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে জাতীয় পার্টির জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন অংশ। সেদিন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন জাপার মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।
অন্যদিকে জাতীয় পার্টি (একাংশ) ও জেপির নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করা নির্বাচনী জোট এনডিএফের পক্ষ থেকে গত ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২২ আসনে ১৩২ জন প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।
৯ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টি (একাংশ) ও জেপির নেতৃত্বে এনডিএফ জোট হয়। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন অংশ দুটিসহ ১৮টি দল রয়েছে এই জোটে।
রিটের যুক্তি সম্পর্কে আইনজীবীর ভাষ্য, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪–দলীয় জোট মহাজোট হিসেবে পরিচিত। এই মহাজোট জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই জোটে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ/ইনু), জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় পার্টি (মঞ্জু), তরিকত ফেডারেশনসহ ১৪টি দল ছিল। জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুসারে তারাও অপরাধ করেছে। যে কারণে সংবিধানের ৬৬ (২) (ঙ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তারা নির্বাচনের অযোগ্য হবে।
রিট দায়েরের পর আবেদনকারীর আইনজীবী শাহরিয়ার কবির বলেছিলেন, ‘ওই প্রজ্ঞাপন (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১২ মের প্রজ্ঞাপন) দিয়ে সরকার আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। অঙ্গসংগঠন মানে আওয়ামী লীগের সব অঙ্গসংগঠন। সহযোগী সংগঠন মানে ১৪ দল। ভ্রাতৃপ্রতিম মানে হচ্ছে জাতীয় পার্টি। সে জন্য ভ্রাতৃপ্রতিম জাতীয় পার্টি সব সময় আওয়ামী লীগের নীতি-আদর্শকে সমর্থন দিয়েছে। ভ্রাতৃপ্রতিম এই দলের প্রার্থী কীভাবে নির্বাচন কমিশন বৈধতা দেয়?’