২৫২ কোটি ঋণ: আদালতের রায়ে দেউলিয়া ঘোষণা চালকল ব্যবসায়ী

আদালতপ্রতীকী ছবি
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

পাওনাদারদের সঙ্গে আর্থিক দাবি নিষ্পত্তির অন্য কোনো উপায় না পেয়ে আদালতে আবেদন করে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করলেন অটোমেটিক রাইস মিল ব্যবসায়ী মো. ওসমান গনি।

আজ সোমবার ঢাকার দেউলিয়া বিষয়ক আদালতের বিচারক মো. শহীদুল ইসলাম বাদী ওসমান গনিকে দেউলিয়া ঘোষণা করে এই রায় ঘোষণা করেন।

৭২ জন বিবাদীর আইনজীবী মো. রুহুল আমিন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বাদী ওসমান গনি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ২৫২ কোটি ২৪ লাখ টাকা ঋণ ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগের জন্য নেন। পরবর্তী সময়ে সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করতে আদালতে আবেদন করেন। কিন্তু এই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত কোনো তদন্ত ছাড়াই এই রায় দিলেন। আদালত কোনো তদন্ত সংস্থা দ্বারা তদন্তও করাননি।

এই রায়ের ফলে বিবাদীরা মারাত্মকভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন উল্লেখ করে বিবাদীপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি অটোমেটিক রাইস মিল ব্যবসায়ী মো. ওসমান গনি বাদী হয়ে ২৬৭ জনকে বিবাদী করে দেউলিয়া বিষয়ক আইনের ১০ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। বিচারকালে মামলায় তিন জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার আরজিতে বাদী বলেন, আর্থিক দাবি নিষ্পত্তির জন্য পাওনাদারদের সঙ্গে সমঝোতা বা অন্য কোনো সম্ভাব্য সমাধানের পথ খুঁজে না পেয়ে বাধ্য হয়ে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করেছেন তিনি। এই মামলায় ২৬৭ জন বিবাদী রয়েছেন। এর মধ্যে ১ থেকে ৭ নম্বর বিবাদী বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান। বাদী এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার আরজিতে ৮ থেকে ২৬৭ নম্বর বিবাদী বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রোপ্রাইটরশিপ প্রতিষ্ঠান। তাদের সঙ্গে বাদীর দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে। বাদী বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা নিয়ে তিনি প্রাথমিকভাবে তিনটি অটোমেটিক রাইস মিল পরিচালনা করেন। ব্যবসা পরিচালনার সময় নিয়মিতভাবে গ্রহণ করা ঋণের অর্থ ও কিস্তি পরিশোধ করতেন বলেও আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীর অটোমেটিক রাইস মিলগুলো চালু হওয়ার পর স্থানীয় অন্য ব্যবসায়ীরাও একই এলাকায় একাধিক অটোমেটিক রাইস মিল স্থাপন ও চালু করেন। পরবর্তী সময়ে অটোমেটিক রাইস মিল শিল্প ক্রমে ভঙ্গুর শিল্পে পরিণত হয় বলে বাদী দাবি করেছেন। চালের সার্বিক উৎপাদন ব্যয় চালের বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি হয়ে যাওয়ায় চালকলমালিকেরা ব্যাপক ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েন। এসব কারণে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বাদী স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাওনা বা দাবিকৃত অর্থও পরিশোধ করতে সক্ষম হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালে নওগাঁয় ওসমান গনির কাছে পাওনাদারেরা পাওনা টাকা চেয়ে মানববন্ধন করেন।