নিখোঁজ মিরাজ শেখের সন্ধান জানতে হাইকোর্টে বাবার রিট
দুই মাসের বেশি সময় ধরে নিখোঁজ বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার মিরাজ শেখকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়নি, তা নিশ্চিত করতে তাঁকে আদালতে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে রিট হয়েছে। মিরাজের বাবা মো. মোস্তফা শেখ আবেদনকারী হয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আজ সোমবার রিটটি দায়ের করেন।
মিরাজ (৩০) সুন্দরবনে মাছ ধরার পাশাপাশি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। এর আগে ‘এক মাসের বেশি নিখোঁজ, কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ স্ত্রীর’ শিরোনামে গত ১৬ মে প্রথম আলোতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এটিসহ এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন যুক্ত করে ওই রিটটি করা হয়।
সংবিধান অনুযায়ী মিরাজের মৌলিক অধিকার রক্ষায় রিটটি দায়ের করা হয়েছে বলে জানান রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মুহা. মুজাহিদুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার রিটটি উপস্থাপন করা হবে। রিটে মিরাজ শেখকে আদালতে হাজির করতে এবং তাঁর অবস্থান ও পরিণতি প্রকাশ করতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, যাতে আদালত নিশ্চিত হতে পারেন যে তাঁকে বেআইনিভাবে আটক করা হয়নি।
রিটে দেখা যায়, স্বরাষ্ট্রসচিব, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র্যাবের মহাপরিচালক, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ ৯ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
প্রথম আলোর গত ১৬ মের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আমি নিজে দেখছি, কোস্টগার্ড আমার স্বামীকে নিয়া গ্যাছে। এহন তারা অস্বীকার করে।’—কথাগুলো বলছিলেন সুন্দরবন-সংলগ্ন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার মুক্তা খাতুন। দুই মাসের বেশি সময় ধরে তাঁর স্বামী মিরাজ শেখ (৩০) নিখোঁজ। তিনি কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে তাঁর স্বামীকে গুম করার অভিযোগ করেছেন।
স্বজনেরা জানান, মিরাজ সুন্দরবনে মাছ ধরার পাশাপাশি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। ১০ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে মাছ ধরে বাড়িতে এসে ঘুমান। সন্ধ্যার আগে অচেনা নম্বর থেকে কয়েকবার ফোন এলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা সাতটার দিকে জয়মনির ঠোটা এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে মিরাজকে সাদাপোশাকে থাকা দুজন ধরে নিয়ে যান। খবর পেয়ে মিরাজের স্ত্রী মুক্তা ছুটে গিয়ে দেখেন, কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে তুলে মিরাজকে মোংলার দিকে নেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ৮ মে মিরাজ শেখের সন্ধান চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে মোংলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। তার আগে গত ২৩ এপ্রিল মোংলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন স্ত্রী মুক্তা খাতুন। এ ছাড়া স্বামীর সন্ধান ও ঘটনার তদন্ত চেয়ে ১৪ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, পুলিশ মহাপরিদর্শক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন মুক্তা খাতুন।