নাহিদের রিট খারিজ, যথারীতি ভোটে থাকছেন বিএনপির কাইয়ুম

নাহিদ ইসলাম (বাঁয়ে) ও এম এ কাইয়ুম (ডানে)কোলাজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।

ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে একই আসনের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

আদেশের পর কাইয়ুমের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আগে থেকেই কাইয়ুম নির্বাচনে লড়ছেন। রিট খারিজ হওয়ায় তিনি যথারীতি নির্বাচন করতে পারবেন।’

অবশ্য নাহিদ ইসলামের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।’

এর আগে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে গত ৩ জানুয়ারি কাইয়ুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে তা গ্রহণ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা গত ২২ জানুয়ারি কাইয়ুমকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দেন।

তবে কাইয়ুম ভানুয়াতু নামের একটি দেশের নাগরিক, অর্থাৎ দ্বৈত নাগরিক—এমন অভিযোগ তুলে রিটার্নিং কর্মকর্তার ওই দুই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গতকাল সোমবার হাইকোর্টে রিট করেন একই আসনের প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। কাইয়ুম দ্বৈত নাগরিক এবং এই তথ্য তিনি হলফনামায় গোপন করেছেন বলে রিটে অভিযোগ করা হয়।

আদালতের আজকের কার্যতালিকায় রিটটি শুনানির জন্য ৮২ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। আদালতে নাহিদ ইসলামের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা। কাইয়ুমের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও মো. রুহুল কুদ্দুস শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্তি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক শুনানিতে অংশ নেন। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।

রিট খারিজের বিষয়ে কাইয়ুমের আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, ‘রিট আবেদনের ভিত্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য, যা ঘটনাগত বিতর্কের বিষয়। এটা ঠিক, কি ঠিক না, তা আদালত নির্ণয় করতে পারেন না। আর নির্বাচনের শিডিউল থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত পুরো সময়টা নির্বাচনী সময়। এই সময়ে উদ্ভব হওয়া বিরোধ নিয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সুযোগ আছে। যে কারণে রিট আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। এ ছাড়া নির্বাচনের পর যদি দেখা যায়, কেউ তথ্য গোপন করেছেন, সংবিধান অনুযায়ী অযোগ্যতার মধ্যে পড়েন এবং সেই তথ্য যদি কমিশনারের কাছে দেওয়া হয়, তথ্য যাচাই সাপেক্ষে যদি দেখা যায় মিথ্যা বলেছেন, তাহলে কমিশনার ফলাফল বাতিল করতে পারেন।’