ভূমিকম্পে বেশি ক্ষতি হবে মোহাম্মদপুরের বছিলায়: অধ্যাপক মাহফুজুল
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহফুজুল হক বলেছেন, গত দুই দশকে ঢাকার নগরায়ণ প্রক্রিয়ায় পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের যেসব এলাকায় নগরায়ণ হয়েছে, সেসব এলাকার মাটির বৈশিষ্ট্য ও ভূতাত্ত্বিক গঠন নগরায়ণের উপযোগী নয়। ফলে ভূমিকম্প হলে মোহাম্মদপুরের বছিলার মতো এলাকায় দুর্যোগ ও ক্ষয়ক্ষতি বেশি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
‘ঢাকা শহরের ভূপ্রকৃতি এবং অভ্যন্তরীণ ভূতাত্ত্বিক বিন্যাসে নগর-পরিকল্পনাগত প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনারে মূল প্রবন্ধে এই শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে অধ্যাপক মাহফুজুল হক বলেন, ঢাকার ভূমিতলের উচ্চতা ৫ থেকে ১৮ মিটারের মধ্যে। এই অঞ্চলের অনেক স্থানে ভবন নির্মাণ ও নগরায়ণের জন্য উপযোগী লাল মাটি রয়েছে। আবার অনেক এলাকায় প্রাকৃতিকভাবেই নিচু ভূমি এবং জলাশয় ও ভূঅভ্যন্তরে পানি ধারণ অঞ্চল (অ্যাকুইফার) আছে। যথাযথভাবে ‘ভূমি উপযোগিতা বিশ্লেষণ’ না করে বর্তমানে নগরায়ণ হওয়ায় সামনের দিনে নগরে দুর্যোগের শঙ্কা বাড়ছে। ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য যথাযথ বিবেচনায় না নেওয়ায় চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের যে প্রকল্প ও উদ্যোগ চলমান আছে, সেগুলোর মাধ্যমে কার্যকর উপযোগিতা পাওয়ার সম্ভাবনাও কম।
ভবন নির্মাণে যেমন বিল্ডিং কোড ও পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট আইন মানা হচ্ছে না, তেমনি প্রভাবশালীদের চাপে নগরায়ণ হচ্ছে স্বেচ্ছাচারীভাবে—এমন মন্তব্য করে সেমিনারে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ফলে সাময়িকভাবে কেউ কেউ লাভবান হতে পারলেও প্রকৃতির প্রতিশোধ থেকে সম্মিলিতভাবে কেউ রেহাই পাবে না। উদাহরণস্বরূপ তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে হাওর এলাকার বন্যায় সিলেট কেন্দ্রীয় নগর এলাকাও বন্যায় তলিয়ে গিয়েছিল।
আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, রাজউকের আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্টের (ইউআরপি) মাধ্যমে ঢাকা শহরের মাটির প্রকৃতি ও ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যকে বিবেচনায় নিয়ে নগর-পরিকল্পনা ও উন্নয়ন করার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। সামনের দিনের পরিকল্পনায় এই বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়েই নগরের সম্প্রসারণ ও টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করতে হবে।
একই বিভাগের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক এ কে এম আবুল কালাম বলেন, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন নগর দুর্যোগের প্রস্তুতির জন্য সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করার পাশাপাশি সারা বাংলাদেশের ইমারত নির্মাণ যেন যাবতীয় নির্মাণ মানদণ্ড মেনে করা হয়। এ জন্য জাতীয় বিল্ডিং কোডের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আনিসা নূরী কাকন, ড. মেহেদী হাসান, অধ্যাপক কাশফিয়া নাহরিন, ড. ফরহাদুর রেজা, এস এম নওশাদ হোসেন প্রমুখ।