বাজারে এল নতুন প্রজন্মের জন্য নতুন ফ্ল্যাগশিপ ‘হেলিও১১০’

প্রিমিয়াম ডিজাইন, অ্যামোলেড ডিসপ্লে, শক্তিশালী পারফরম্যান্স, বড় ব্যাটারি ও স্মার্ট ফিচারের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি পরিপূর্ণ ফ্ল্যাগশিপ এক্সপেরিয়েন্স—হেলিও১১০
ছবি: হেলিওর সৌজন্যে

মুঠোফোন এখন শুধু মানুষের যোগাযোগের উপকরণই নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রয়োজন—কাজ, বিনোদন ও নতুন কিছু করা বা বানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দৈনন্দিন জীবনের অসংখ্য প্রয়োজনের সঙ্গে এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তাই এখন প্রায় সবাই একটি ফ্ল্যাগশিপ ফোন ব্যবহারের প্রয়োজন অনুভব করেন। কিন্তু ঠিক এই সময়ে স্টোরেজের পাশাপাশি মোবাইল ডিভাইসের অন্যান্য যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়ায় ফ্ল্যাগশিপ পর্যায়ের ফোনগুলো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

ঠিক এমন সময়ই বাজারে ‘হেলিও’ মোবাইল তাদের লাইনআপে নতুন একটি ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন নিয়ে এসেছে। প্রিমিয়াম ডিজাইন, অ্যামোলেড ডিসপ্লে, শক্তিশালী পারফরম্যান্স, বড় ব্যাটারি ও স্মার্ট ফিচারের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি পরিপূর্ণ ফ্ল্যাগশিপ এক্সপেরিয়েন্স—হেলিও১১০।

স্মার্টফোনটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো এর ডিজাইন। থ্রিডি ডুয়েল কার্ভড ডিজাইনের পাশাপাশি ফোনটির স্লিমনেস ও এরগোনমিক গ্রিপ ফোনটিকে শুধু প্রিমিয়াম লুকই দেয়নি, হাত নিয়ে ধরার অনুভূতিতেও দেবে প্রিমিয়াম ফিল। পিইউ লেদার ও পলিকার্বোনেটের সংমিশ্রণে তৈরি ফোনটির রয়েছে ফ্লেম অরেঞ্জ ও নেভি ব্লু—দুটি কালার অপশন।

ডিজাইনের পর ফোনটির আরও একটি বিশেষত্ব হলো এর রিয়ার ভিউ ডিসপ্লে। ফোনের পেছনের এ ছোট্ট ডিসপ্লে শুধু দেখানোর জন্য দেওয়া নয়; এর মাধ্যমে ভলিউম পরিবর্তনের ভিজ্যুয়াল ফিডব্যাক, নোটিফিকেশন ইন্ডিকেশন, সময় ও তারিখ এবং টেক্সট ও ইমোজি দেখার সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ফোনের ব্যাকসাইডটিও ব্যবহারকারীর জন্য ইন্টারঅ্যাকশনের সহজ উপায় হয়ে উঠতে পারে।

হেলিও১১০-এ রয়েছে ৬.৬৭ ইঞ্চি থ্রিডি ডুয়েল কার্ভড অ্যামোলেড এফএইচডি+ ডিসপ্লে, যার ১০৮০×২৪০০ রেজোল্যুউশন, ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট ও ১০ বিট কালার ডেপথ কনটেন্টকে করবে আরও প্রাণবন্ত ও ফ্লুইড। ১০,০০০ নিটস পিক ব্রাইটনেসের কারণে বাইরের উজ্জ্বল পরিবেশেও স্ক্রিনে কনটেন্ট দেখার অভিজ্ঞতা হবে আরও স্মুথ।

ফোনের পেছনের এ ছোট্ট ডিসপ্লে শুধু দেখানোর জন্য দেওয়া নয়; এর মাধ্যমে ভলিউম পরিবর্তনের ভিজ্যুয়াল ফিডব্যাক, নোটিফিকেশন ইন্ডিকেশন, সময় ও তারিখ এবং টেক্সট ও ইমোজি দেখার সুবিধাও পাওয়া যাচ্ছে
ছবি: হেলিওর সৌজন্যে

শুধু চোখধাঁধানো ভিজ্যুয়াল নয়, দীর্ঘ সময় ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এ কারণে ফোনটিতে ফ্লিকার-ফ্রি টেকনোলজি, ইন্টেলিজেন্ট ডিমিং ও সারকাডিয়ান রিদম স্লিপ কেয়ার ও আই কেয়ারের মতো ফিচার দেওয়া হয়েছে, যাতে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারেও চোখে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়।

হেলিও১১০-এর পারফরম্যান্সে রয়েছে মিডিয়াটেক হেলিও জি২০০ চিপসেট। ৬ ন্যানোমিটার আর্কিটেকচারের অক্টা-কোর প্রসেসর এবং ১১০০ মেগাহার্টজ জিপিইউ রয়েছে ফোনটিতে। ডে-টু-ডে মাল্টিটাস্কিং, দ্রুত অ্যাপ লঞ্চিং ও গেমিংয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে স্মার্টফোনটিকে। এলপিডিডিআর৪এক্স র‍্যাম ও ফাস্টার ইউএমসিপি মেমোরির কারণে হেলিও১১০ খুব দ্রুত ডেটা অ্যাকসেস নিতে পারবে। পাশাপাশি এটি নিশ্চিত করবে স্মুথ মাল্টিটাস্কিং ও নিরবচ্ছিন্ন পারফরম্যান্স।

হেলিও১১০-এ রয়েছে ৮ জিবি র‍্যাম, যা এক্সটেন্ডেড র‍্যাম ব্যবহারের মাধ্যমে ১৬ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। সঙ্গে ১২৮ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ থাকায় অ্যাপস, ফটো, ভিডিও ও প্রয়োজনীয় ফাইল রাখার জন্য পাওয়া যাবে পর্যাপ্ত জায়গা।

ফ্ল্যাগশিপ এক্সপেরিয়েন্স শুধু পারফরম্যান্স দিয়ে সম্পূর্ণ হয় না, সেই পারফরম্যান্স দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। হেলিও১১০-এ রয়েছে ৬ হাজার এমএএইচ হাই-ডেনসিটি ব্যাটারি, যার সঙ্গে রয়েছে ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সিস্টেম। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় গেমিং, স্ট্রিমিং, ব্রাউজিং কিংবা কাজ করার পরও দ্রুত চার্জিংয়ের মাধ্যমে আবার ব্যবহারে ফিরে আসা সহজ হবে। ফোনের বক্সেই পাওয়া যাবে ৪৫ ওয়াটের চার্জার, যা দিয়ে মাত্র ৩৫ মিনিটেই ৫০ শতাংশ চার্জ হবে।

ছবি তোলার ক্ষেত্রে হেলিও১১০-এর মূল আকর্ষণ ৬৪ এমপি আইএমএক্স ক্যামেরা, যেখানে রয়েছে ইআইএস সাপোর্ট। ইআইএসের মাধ্যমে চলমান অবস্থায় ছবি বা ভিডিও ধারণের সময় ক্যামেরা শেক কমিয়ে আরও স্টেডি ফুটেজ পাওয়া যায়। এর সঙ্গে রয়েছে ২ এমপি ম্যাক্রো ক্যামেরা, যা কাছের সাবজেক্টের ফাইনার ডিটেইলস ধারণের জন্য ব্যবহার করা হয়।

ছবি তোলার ক্ষেত্রে হেলিও১১০-এর মূল আকর্ষণ ৬৪ এমপি আইএমএক্স ক্যামেরা, যেখানে রয়েছে ইআইএস সাপোর্ট
ছবি: হেলিওর সৌজন্যে

শুধু ট্র্যাডিশনাল ফটোগ্রাফি নয়, হেলিও১১০-এ রয়েছে লাইভ ফটো, ডুয়েল-ভিউ ভিডিও, স্পোর্টস মোড, ডকুমেন্ট কারেকশন ও স্মার্ট গ্রুপ ফটোর মতো বেশ কিছু ক্রিয়েটিভ ক্যামেরা ফিচার। বিশেষ করে ডুয়েল-ভিউ ভিডিওর মাধ্যমে একই সময়ে সামনে ও পেছনের ভিউ নেওয়া যায় যা ট্রাভেল কনটেন্ট, রিঅ্যাকশন ভিডিও কিংবা এভরিডে স্টোরিটেলিংকে আরও ক্রিয়েটিভ করে তুলতে পারে।

সেলফির জন্য রয়েছে ৩২ এমপি ফ্রন্ট ক্যামেরা, যা হাই রেজোল্যুউশন সেলফি ক্যাপচারের পাশাপাশি পোর্ট্রেট ও বিউটি ফিচারের মাধ্যমে আরও রিফাইন্ড সেলফি এক্সপেরিয়েন্স দিতে পারে।

এনএফসি, ইনফ্রারেড রিমোট, ইন্টেলিজেন্ট নয়েজ রিডাকশন ও ডুয়েল স্পিকারের মতো স্পেশাল ফিচারগুলো হেলিও১১০-এর দৈনন্দিন ব্যবহারকে আরও সহজ করে দেবে। কলের সময় ইন্টেলিজেন্ট নয়েজ রিডাকশন ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ কমিয়ে ভয়েস ক্ল্যারিটি বাড়ানোর চেষ্টা করে। আর আপার ও লোয়ার দুটি স্পিকারের সমন্বয়ে তৈরি ডুয়েল-স্পিকার সেটআপ মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট আরও উপভোগ্য করে তুলবে।

ডিউরেবিলিটির দিকেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই স্মার্টফোনে। ধুলাবালুর ছিটা থেকে রক্ষা করার জন্য রয়েছে আইপি৬৪ রেটিং। ফোনের বডিতে দেওয়া হয়েছে আয়রন গার্ড প্রটেকশন, ফলে ১ মিটার উচ্চতা থেকে ফোনটি পড়ে গেলেও কোনো ধরনের স্ক্র্যাচ পড়া বা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেবে।

দ্রুত আনলকের জন্য ফোনটিতে রয়েছে ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফেস আনলক সিস্টেম। এ ছাড়া আরও বেশ কিছু ফিচার রয়েছে যেমন জাইরোস্কোপ, কম্পাস ইত্যাদি।

অ্যান্ড্রয়েড ১৬-এ চলবে হেলিও১১০ স্মার্টফোনটি। ভবিষ্যতে গ্রাহক অ্যান্ড্রয়েড ১৭ আপডেট করে নিতে পারবেন।

হেলিও১১০ ফোনটির কোনো একক ফিচার নয়, বরং থ্রিডি ডুয়েল কার্ভড অ্যামোলেড ডিসপ্লে, মিডিয়াটেক জি২০০, ৬৪ এমপি ক্যামেরা, ৩২ এমপি সেলফি ক্যামেরা, ৬ হাজার এমএএইচ ব্যাটারি, ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং, রিয়ার ভিউ ডিসপ্লে, এনএফসি ও আইআর রিমোট—সবকিছুর সমন্বয়ে তৈরি এই এক্সট্রাঅর্ডিনারি ফ্ল্যাগশিপ এক্সপেরিয়েন্স।

ভিন্নধর্মী ফিচারসমৃদ্ধ হেলিও১১০–এর দাম ২৬ হাজার ৯৯৯ টাকা। সঙ্গে থাকবে ১৫ মাসের সার্ভিস ওয়ারেন্টি। এ ছাড়া হেলিও১১০-এর সঙ্গে পাওয়া যাবে গ্রামীণফোনের বান্ডল অফার।