ফায়ার ফাইটার নিয়োগে প্রতিটি ধাপে কড়া নজরদারি অধিদপ্তরের
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার ফাইটার (অগ্নিনির্বাপণকর্মী) নিয়োগে কোনো ধরনের দালাল চক্র, তদবির বা অনৈতিক লেনদেনের সুযোগ নেই—এই বার্তা দিতে পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করেছে অধিদপ্তর।
শারীরিক যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষা মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরা, আকাশে উড়ছে ড্রোন, প্রতিটি ধাপ ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে চলছে এ পরীক্ষা।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ১১ জুন থেকে নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচলে অবস্থিত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে এ বছরের ফায়ার ফাইটার নিয়োগের শারীরিক যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষা শুরু হয়েছে। শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সূত্র জানায়, প্রতিদিনের পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হচ্ছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রথমে প্রবেশপত্র যাচাই করে জেলাভিত্তিক ২০ জন করে প্রার্থীকে মাঠে প্রবেশ করানো হয়। এরপর কাগজপত্র, উচ্চতা, ওজন ও বুকের মাপ পরীক্ষা করা হয়। প্রাথমিক যাচাইয়ে উত্তীর্ণদের ১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ৪০০ মিটার দৌড় শেষ করতে হয়। দৌড়ে সফল প্রার্থীদের পরবর্তী ধাপে পাঁচজন করে পুশ–আপ পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। একটানা ১৫টি পুশআপ সম্পন্ন করতে পারলেই তাঁরা মেডিক্যাল পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন।
মেডিক্যাল পরীক্ষা পরিচালনা করে পাঁচ সদস্যের একটি দল। এতে ফায়ার সার্ভিসের দুজন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তিনজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। সব ধাপে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ছবি তোলা, তথ্য নিবন্ধন, স্বাক্ষর গ্রহণ এবং কম্পিউটারে তথ্য সংরক্ষণের পর একই দিন লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
অন্যদিকে যে ধাপে কোনো প্রার্থী অযোগ্য বিবেচিত হন, তাঁর আঙুলে অমোচনীয় কালি দিয়ে চিহ্নিত করে নির্ধারিত পথ দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পুরো নিয়োগ কার্যক্রম সিসি ক্যামেরায় সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ড্রোন, ভিডিও ক্যামেরা ও স্থিরচিত্র ক্যামেরায় প্রতিটি ধাপ ধারণ করা হচ্ছে।
বিশেষ করে ৪০০ মিটার দৌড়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রতিযোগিতা ভিডিওতে ধারণ করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর জানায়, নিয়োগ কার্যক্রম তদারক করছেন নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শহীদ আতাহার হোসেন। তাঁর সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও সরকারি কর্ম কমিশনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকছেন।
এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামালও মাঠে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন। এর পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি প্রতিদিন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো নিয়োগ কার্যক্রম মনিটর করছে।
শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের উদ্দেশে পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার সতর্কতামূলক ব্রিফিং দেন। তিনি বলেন, কোনো প্রতারক বা দালালের প্রলোভনে পড়ে যেন কেউ অনৈতিক আর্থিক লেনদেনে জড়িয়ে না পড়েন।
নিয়োগস্থলের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া অন্য কাউকে প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। মাঠের ভেতর ও বাইরে বিভিন্ন স্থানে দালাল ও অনৈতিক লেনদেন বিরোধী সতর্কতামূলক ব্যানার টাঙানো হয়েছে। একই ধরনের বার্তা ফায়ার সার্ভিসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজেও প্রচার করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং পরীক্ষার দিনই ফল প্রকাশ করা হবে। লিখিত পরীক্ষা পরিচালনায় কারিগরি সহায়তা দেবে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)। এরপর আগস্টের মধ্যে মৌখিক পরীক্ষা শেষ করে পুরো নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অধিদপ্তর আবারও জানিয়েছে, ফায়ার ফাইটার নিয়োগে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা তদবিরের সুযোগ নেই। তাই দালাল বা প্রতারকের খপ্পরে না পড়ে সবাইকে নিয়ম মেনে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটি স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। আমরা এর জন্য সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিংসহ প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।’