বাহরাইনে নিহত প্রবাসী তারেকের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

বাহরাইনে নিহত প্রবাসী এস এম তারেকের মরদেহ গ্রহণের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা; ৩ এপ্রিল ২০২৬ছবি: পিআইডি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে বাহরাইনে নিহত বাংলাদেশি এস এম তারেকের মরদেহ শুক্রবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। সৌদি আরবের দাম্মাম থেকে গালফ এয়ারের একটি ফ্লাইটে মরদেহটি দেশে আনা হয়।

বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মরদেহটি গ্রহণ করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মরদেহ গ্রহণের পর প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গভীর শোক প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ছয় বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীকল্যাণ, পররাষ্ট্র এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় অত্যন্ত সমন্বিতভাবে নিহত ব্যক্তিদের পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে মরদেহ আনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করছে।

আরিফুল হক জানান, নিহতের পরিবারকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং ৫০ হাজার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আর্থিক সহায়তা হিসেবে ৩ লাখ টাকা এবং বিমার ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিহতের এলাকার সংসদ সদস্যের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিবারটিকে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।

এ সময় প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানান, এ পর্যন্ত তিনজন প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে। তিনি নিহত ব্যক্তিদের প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন।

একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান নুরুল হক।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যারা মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া গ্রিসের ক্যাম্পে বন্দী অবস্থায় থাকা বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।