ভোট নিয়ে কী ভাবছেন তাঁরা

উপরে বাঁ থেকে জাহাঙ্গীর আলম ও মো. জামাল; নিচে বাঁ থেকে সাইফুল ইসলাম ও কারওয়ানবাজারে লেবু বিক্রেতা নারী (নাম জানা যায়নি)ছবি: প্রথম আলো

ভোটের আগে অনেক দাম, ভোট দেওয়ার পর আর কেউ খোঁজও নেয় না, নির্বাচনের প্রার্থীদের নিয়ে এমনই অভিযোগ অনেক ভোটারের। কাকে ভোট দেবেন তা বলে বা ভোট নিয়ে কথা বলে বিপদে পড়তে চান না এমনও বললেন বেশ কয়েকজন ভোটার।

আজ রোববার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজারে অনেকের সঙ্গে ভোট নিয়ে তাঁদের ভাবনা সম্পর্কে কথা হয়। ভোট নিয়ে কথা বললেও ভিডিও প্রতিবেদন বা প্রতিবেদনে নাম দিতে চাইলে আপত্তি জানালেন তাঁরা। বিশেষ করে নারীরা পরিচয় প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি। কারওয়ান বাজারে সড়কে বসে পণ্য বিক্রি করা এক নারীর সঙ্গে কথা বলার সময় পাশের পুরুষ বিক্রেতা মারমুখী আচরণ করতে থাকেন। ওই নারী বিক্রেতা আস্তে করে বললেন, তাঁর যাঁকে ভালো লাগবে তাঁকেই তিনি ভোট দেবেন।

মো. জাহাঙ্গীর আলম
ছবি: প্রথম আলো

মো. জাহাঙ্গীর আলম, আগে ট্রাক চালাতেন এখন ট্রাক মিস্ত্রি বা মেরামতের কাজ করেন। থাকেন কারওয়ান বাজারে। তিনি বরিশালের ভোটার। বরিশালে তিনি যে এলাকায় থাকেন, সেখানে এখন বড় সমস্যা কী আছে, সে সম্পর্কে তেমন জানেন না। নির্বাচনের আগে গিয়ে সব খোঁজখবর নেবেন।

আগের নির্বাচনগুলোতে ভোট দিয়েছেন তো, এ প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এর আগে কি ভোট দিতে পারছি নাকি? শেখ হাসিনা ভোট দিতে দিছে?’ তবে এবার ভোট দিতে পারবেন বলে আশাবাদী। জাহাঙ্গীর আলমের প্রশ্ন হলো, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা তো চলে গেছে, তাহলে এখনো দেশে মারামারি, হানাহানি কেন?

‘হ্যাঁ’ ভোট, ‘না’ ভোট প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম জানালেন, তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। কেননা নিয়মকানুন পরিবর্তনের দরকার আছে। আগে সরকার গঠন হতো, তারপর যাদের দলে এমপি বেশি থাকত, তারা যা মন চাইত তা–ই করত। বিদ্যুতের দামসহ বিভিন্ন জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি, ঘুষ ছাড়া কাজ না হওয়া—এমন বিষয়গুলোর পরিবর্তন চান তিনি। আর এ বিষয়গুলোন পরিবর্তন হলে নির্বাচনের পর দেশটা ভালো চলবে বলে মনে করেন তিনি।

কোন প্রার্থীকে ভোট দেবেন জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কারা কেমন চলাফেরা করতাছে তা দেখে ভোট দিমু।’ তবে এই চলাফেরা বলতে কী বোঝাতে চাচ্ছেন, তা বলে বিপদে পড়তে চান না বলে জানালেন। দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে ভালোই আছেন জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বললেন, এখন দেশটা একটু ভালো চলুক। দলগুলো একটু মিলেমিশে চলুক।

মো. জামাল
ছবি: প্রথম আলো

কারওয়ান বাজারে একটি দোকানে শিঙাড়া, সমুচা বানান মো. জামাল। তিনিও বরিশালের ভোটার। বললেন, যাঁকে ভালো লাগবে, যিনি দেশের জন্য কাজ করবেন, তাঁকেই ভোট দেবেন। সবাই তো ভোটের আগে দেশের জন্য কাজের কথা বলেন, পরে সেই কথা রাখেন কি না, তা জানতে চাইলে মাথা নেড়ে ‘না’ বললেন।

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ফুচকার ব্যবসা করেন সাইফুল ইসলাম। তাঁর মতে, এবার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজ চলছে, সবাই ভোট দিতে যাবেন ভাবছেন। যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবেন আর যোগ্য প্রার্থী হবেন তিনি, যিনি ভোটের পরে গরিব মানুষের দিকে একটু নজর রাখবেন। ভোটার হিসেবে এটাই তাঁর চাওয়া।

সাইফুল ইসলাম
ছবি: প্রথম আলো

শরীয়তপুরে ভোট দিতে যাবেন সাইফুল ইসলাম। তবে ভোটে একেকজন এমপি হওয়ার পর এলাকার মানুষদের কোনো দামই দেন না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করলেন তিনি।

সাইফুল ইসলাম থাকেন পশ্চিম রাজাবাজার। সেখানে একমাত্র বড় সমস্যা গ্যাস থাকে না। তাই এ এলাকায় যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনি যেন গ্যাসের সমস্যার সমাধান করেন, এটাও চাওয়া তাঁর। ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে তা সরকারের পক্ষ যাবে এটুকু বুঝতে পারছেন, এর বেশি এ বিষয়ে ধারণা নেই বলে জানালেন সাইফুল ইসলাম।

একটি অ্যাপের সিএনজি অটোরিকশাচালক এই প্রতিবেদককে মোহাম্মদপুর থেকে কারওয়ান বাজারে ভাড়ায় নিয়ে আসেন। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামে, থাকেন রাজধানীর বাড্ডায়। অটোরিকশা চালাতে চালাতে তিনি কারও সঙ্গে ফোনে নির্বাচনের সময় কবে বাড়ি যাবেন, তা নিয়ে কথা বলছিলেন। জানালেন, চট্টগ্রামে গিয়ে ভোট দিতে যাওয়া–আসায় খরচ হবে অনেক। তারপরও তিনি ভোট দিতে যাবেন। তাঁর মতে, এতে দিনে মনে হচ্ছে, ভোটটা সুষ্ঠুভাবে দিতে পারবেন।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে এই চালকের নাম দিতে চাইলে প্রবলভাবে মাথা নেড়ে বললেন, তিনি পত্রিকার সঙ্গে ভোট নিয়ে কথা বলে কোনো বিপদে পড়তে চান না।