নতুন বাংলাদেশ নিয়ে আর কোনো শঙ্কায় থাকতে চান না বলে জানিয়েছেন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরা।
আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার সময় বেলা ১১টার দিকে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে তিনটি দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরা।
মানববন্ধন শেষে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে কথা হয় জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় উত্তরায় শহীদ হওয়া মো. মাহমুদুর রহমান খানের স্ত্রী মরিয়ম খানমের সঙ্গে। তিনি বলেছেন, ‘নতুন বাংলাদেশ নিয়ে আমরা শঙ্কায় থাকতে চাই না।’
মরিয়মের দুই মেয়ে ও এক ছেলেসন্তান আছে। বড় সন্তান সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। তিনি বলেন, ‘বাচ্চারা বাবাহীন। দেশের জন্য আমরা এই ত্যাগ মেনে নিয়েছি। আমরা একটা নতুন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম, যেটা দুর্নীতিমুক্ত হবে। সবার অধিকার সমান হবে।’
সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ায় জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত উল্লেখ করে মরিয়ম খানম বলেন, ‘এইটাই তো এখন আমাদের কষ্টের জায়গা। যদি সবকিছু আগের মতোই থাকে, তাহলে তো আমরা এককভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, চেয়েছিলাম পরের জেনারেশন যেন লাভবান হয়। কিন্তু আসলে তো ওইটা হচ্ছে না। যদি জুলাই সনদটা বাস্তবায়ন হয় তাহলে অন্তত একটা ভরসা পেতাম। এই শঙ্কায় আমরা থাকতে চাই না।’
মানববন্ধনে শহীদ পরিবারের সদস্যরা তিনটি দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো—অবিলম্বে সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে হবে। রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করতে হবে। জুলাই গণহত্যার বিচার করতে হবে।
মানববন্ধনে অংশ নেন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নারী শহীদ নাইমা সুলতানার মা আইনুন নাহার, শহীদ শেখ ফাহমিন জাফরের মা কাজী লুলুল মাকমিন, শহীদ মো. মনিরুল ইসলামের ছেলে মঞ্জুরুল ইসলাম রিফাত, শিশু শহীদ জাবির ইব্রাহিমের বাবা কবির হোসেনসহ অন্যরা।
কবির হোসেন নতুন সরকারের প্রতি আস্থা রাখতে চান উল্লেখ করে বলেন, জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার রক্ত আছে তারেক রহমানের শরীরে। তিনি তাঁদের মতোই দেশপ্রেমিক হবেন। কোনো হেজিমনিকে পাত্তা দেবেন না, সেটাই প্রত্যাশা।
তবে সব সংসদ সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। নিজের সন্তান হত্যার বিচার ও রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনেরও দাবি জানিয়েছেন কবির।
জুলাই সনদের বাস্তবায়ন না হলে বিদেশে টাকা পাচার ও গুরুতর অপরাধগুলো বন্ধ হবে না এবং আবারও পুরোনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে বলে মনে করেন শহীদ শেখ ফাহমিন জাফরের মা কাজী লুলুল মাকমিন। তিনি চান, জুলাই শহীদদের বিচার যেন ত্বরান্বিত হয়।
কাজী লুলুল মাকমিন বলেন, ‘মনে হচ্ছে জুলাই সনদের কিছু কিছু বাদ দিয়ে তাঁরা বাস্তবায়ন করতে চান। জুলাই সনদের কিছু বাদ দিয়ে যদি তাঁরাও বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো হতে চায়, এটা হতে দেওয়া যাবে না।’