নতুন সংসদ সদস্য হানজালার লাঠি হাতে শাসনের ভিডিওগুলো পুরোনো

মধ্য বয়সী এক ব্যক্তিকে জনসমক্ষে কাদাপানিতে উপর করে শুইয়ে রেখে হাতে লাঠি নিয়ে তিনি বলছেন, ‘মাথা নিচু কর। মুখে পানি ল। আর জীবনে গাঞ্জা খাবি? তোর কত বড় সাহস, গাঞ্জা কিনতে আসছিস। তোর কলিজা কত বড় হইছে, গাঞ্জা কিনতে আসছিস। তোর কলিজাটা একবারে বাইর কইরা ফেলমু।’

এই তিনি হলেন মাদারীপুর–১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হওয়ার পর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাঁকে লাঠি হাতে মানুষকে শাসাতে দেখা যায়। ওই ভিডিওতে কাদাপানিতে শুয়ে থাকা ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে পিটুনির পর কান ধরিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি আদায় করেন, তিনি আর মাদক কেনাবেচা করবেন না।
এখানে

ভোটের দুই দিন পর ১৪ ফেব্রুয়ারি ভিডিওটি ফেসবুকে একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ছড়ানো হয় এই ক্যাপশন দিয়ে, ‘খেলাফত মজলিসের সাইদ উদ্দিন হানজালা। এমন নেতাই তো সমাজে প্রয়োজন, আলহামদুলিল্লাহ।’

এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ছিলেন। তিনি রিকশা প্রতীকে পান ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট। ভোটে তিনি হারান বিএনপির নাদিরা আক্তারকে। ধানের শীষ প্রতীকে নাদিরা পান ৬৪ হাজার ৫২৪ ভোট।

হানজালার আরেকটি ছবি ও ভিডিও ছড়িয়েছে ফেসবুকে। সেখানে মাথা নিচু করে থাকা তিন যুবককে লাঠি দিয়ে জনসমক্ষে পেটাতে দেখা যায় তাঁকে। সেখানে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কেউ এলাকায় মাদক কিনতে গেলে উলঙ্গ করে ঝুলিয়ে রাখা হবে।
এখানে

যাচাই করে দেখা যায়, ভিডিও দুটির ঘটনা সত্যি, ঘটনাগুলো মাদারীপুরের। তবে এগুলো সাম্প্রতিক সময়ের নয়। ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট জাতীয় একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, শিবচরে মাদক কিনতে আসা চার যুবককে জুতাপেটা, লাঠিপেটাসহ কান ধরে উঠবস করান স্থানীয় দুই পীরজাদা মাওলানা মো. মোহসেন ও মাওলানা হানজালা। ঘটনা গত ২২ আগস্টের (২০২৪ সালের)।
এখানে, এখানে

আজ রোববার তাঁর ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দেন।
ছবি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে

নির্বাচনের পর ভিডিওগুলো নতুন করে ছড়ানোর পর সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা আজ রোববার তাঁর ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে এ ঘটনার ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ভিডিওগুলো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরের। তাঁর যুক্তি, তখন দেশে প্রশাসনব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল বলে মাদক ঠেকানোর দায়িত্ব নিতে তাঁরা ‘বাধ্য হয়েছিলেন।

এখন এই ভিডিও প্রচারকে নিরুৎসাহিত করে হানজালা বলেন, ‘আগে হয়তো প্রশাসন ছিল না, আপনাদের ভালোবাসায়, দোয়ায় আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এখন আমি নির্বাচিত হয়ে এসেছি। প্রশাসন ও আমি একত্র হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

সাইদ উদ্দিন হানজালা আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভঙ্গুর হয়ে পড়েছিল। সেই সময় আইনের শাসন ছিল না। তাই শিবচরকে মাদক ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখতে স্থানীয়ভাবে কয়েকটি ঘটনার শাসন ও বিচার করেছিলাম। পরে যখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো হয়, তখন আমি নিজে কোনো বিচার বা শাসন করিনি। এখন এমপি হয়েছি, দেশের আইনগত বিষয় মেনেই প্রশাসনকে সহযোগিতা করব।’

পুরোনো ভিডিওগুলো নিয়ে নিজেও ‘বিব্রত’ হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণও ভুল বুঝতেছে।’

সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালার আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়ে মাদারীপুরের শিবচর থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, এমন কোনো ভিডিও তাঁদের চোখে পড়েনি। এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগও করেনি।