যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচন
পূর্ব লন্ডনে ইতিহাস গড়তে পারেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লুৎফুর-ফরহাদ
রাত পেরোলেই যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচন। যুক্তরাজ্যজুড়ে ১৩৬টি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে হাজারো কাউন্সিলর পদের পাশাপাশি কয়েকটি সরাসরি নির্বাচিত মেয়র পদেও ভোট গ্রহণ করা হবে। এবারের নির্বাচনে পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি-অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস ও নিউহাম কাউন্সিল ঘিরে বাড়তি কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কারণ, লন্ডনের ৩২টি বরোর মধ্যে নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন ৪টি বরোর দুটিতেই মেয়র পদে বিজয়ের সম্ভাবনায় এগিয়ে থাকা প্রধান দুই প্রার্থী লুৎফুর রহমান ও ফরহাদ হোসেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।
বিশেষ করে টাওয়ার হ্যামলেটসের নেতৃত্ব যে বাংলাদেশিদের হাতেই থাকছে, এটি একপ্রকার নিশ্চিত। এই বরোতে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে এসপায়ার পার্টির প্রার্থী ও বর্তমান নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান এবং লেবার পার্টির প্রার্থী সিরাজুল ইসলামের মধ্যে। দুজনই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তাই নির্বাচনের ফল যা–ই হোক না কেন, বরোটির নেতৃত্ব আবারও বাংলাদেশিদের হাতে থাকার সম্ভাবনা প্রবল। এখানে মেয়র পদে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আরও দুই প্রার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মোহাম্মদ আবদুল হান্নান এবং টাওয়ার হ্যামলেটস ইনডিপেনডেন্টের জামি আলী।
বর্তমান মেয়র লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন এসপায়ার পার্টি শক্তিশালী তৃণমূল নেটওয়ার্ক ও বাংলাদেশি ভোটব্যাংকের ওপর ভর করে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়। লুৎফুর রহমান তিনবারের নির্বাচিত মেয়র। প্রতিবারই লেবার পার্টিকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি। বিভিন্ন নির্বাচনী বিশ্লেষণ ও জরিপেও তাঁকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের জরিপ সংস্থা ইউগভের জরিপ অনুযায়ী, টাওয়ার হ্যামলেটসে লুৎফুর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে আছেন। এবার জয়ী হলে মূলধারার বড় রাজনৈতিক দলগুলোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এটি হবে তাঁর টানা চতুর্থ বিজয়।
অন্যদিকে ২০০১ সাল থেকে টানা সাতবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলামকে সামনে রেখে টাওয়ার হ্যামলেটস বরো পুনর্দখলের চেষ্টা করছে লেবার পার্টি। বাংলাদেশি ভোটারদের লক্ষ্য করেই দলটি এবারের নির্বাচনী কৌশল সাজিয়েছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
নিউহাম কাউন্সিলও এবারের নির্বাচনে বিশেষ আলোচনায় রয়েছে। ১৯৬৫ সালে এই বরো প্রতিষ্ঠার পর থেকে কাউন্সিলটি সব সময় লেবার পার্টির নিয়ন্ত্রণে। এবার সেই দল থেকেই মেয়র পদে মনোনয়ন পেয়েছেন ফরহাদ হোসেন। তিনি জয়ী হলে যুক্তরাজ্যের কোনো মূলধারার বড় রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রথম বাংলাদেশি নির্বাহী মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়বেন।
বহুজাতিক এই বরোতে মূলধারার অন্যান্য রাজনৈতিক দল খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে না থাকলেও গ্রিন পার্টি কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষ করে গ্রিন পার্টির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মেয়র প্রার্থী আরিক চৌধুরী নির্বাচনী প্রচারণায় আলোচনায় আছেন। তবে প্রাক্-নির্বাচনী সব জরিপ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফরহাদ হোসেনই এগিয়ে রয়েছেন। যে প্রার্থীই জয়ী হোন না কেন, নিউহামের নেতৃত্বও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কোনো রাজনীতিকের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ করা হবে। টাওয়ার হ্যামলেটসে ৭৬টি কেন্দ্রে মোট ১১০টি পোলিং স্টেশনের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে। এখানে দুই লাখের বেশি ভোটার আগামী চার বছরের জন্য তাঁদের নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন।
একইভাবে নিউহাম কাউন্সিলেও শতাধিক ভোটকেন্দ্র ও পোলিং স্টেশনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে আড়াই লাখের কাছাকাছি ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মেয়র পদ ছাড়াও পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি-অধ্যুষিত চারটি কাউন্সিল—টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহাম, রেডব্রিজ ও বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহাম মিলিয়ে তিন শতাধিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাঁরা। ফলে এবারের নির্বাচনে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক প্রভাব নতুন করে আলোচনায় এসেছে।