বাজেট পর্যালোচনা: অনুৎপাদনশীল ৮ খাতে ব্যয় হবে ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বেশি
আগামী অর্থবছরের বাজেটে অনুৎপাদনশীল ৮ খাতে ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হবে বলে জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। এই আট খাত হলো—প্রশিক্ষণ; জ্বালানি তেল ও লুব্রিকেন্ট; ভ্রমণ ও বদলি; মুদ্রণ ও মনিহারি; পেশাগত সেবা ও সম্মানী; মেরামত ও সংরক্ষণ; ভবন ও স্থাপনা নির্মাণ এবং যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি (আইনশৃঙ্খলা ও মেডিক্যাল সরঞ্জাম ব্যতীত)।
কমিটির পর্যবেক্ষণ বলছে, মোট বাজেটের প্রায় আট ভাগের এক ভাগ এই খাতগুলোতে চলে যাচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পল্টনে ইআরএফ মিলনায়তনে ‘বাজেট ২০২৬ পর্যালোচনা: উন্নয়ন দর্শন ও কাঠামোগত সমস্যা’ শীর্ষক আলোচনা সভার এক প্রবন্ধে এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। এই সভার আয়োজক ছিল গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। এতে সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বাজেটে উন্নয়নের নামে যা হচ্ছে, তা প্রকৃতপক্ষে কেনাকাটা ও প্রদর্শনকেন্দ্রিক, যেখানে প্রকৃত সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি উপেক্ষিত থাকছে। শিক্ষা খাতে অনেক স্কুল-কলেজের নিজস্ব ভবন, শ্রেণিকক্ষ বা গবেষণাগার নেই, ভবন জরাজীর্ণ, শিক্ষকের পদ শূন্য। অথচ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের জন্য ট্যাব কেনায়।
স্বাস্থ্য খাতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, বহু মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক ও নার্সের পদ খালি থাকলেও দামি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, সরবরাহকারী, আমদানিকারক ও ক্রয়প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কমিশন-স্বার্থের কারণেই এই যন্ত্র কেনা হয়। অথচ চালানোর উপযুক্ত জনবল না থাকায় সেগুলো প্রায়ই মাসের পর মাস বাক্সবন্দী অবস্থায় পড়ে থাকে।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, প্রকৃত উন্নয়ন কাঠামো নির্মাণ বা যন্ত্র কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং জনবল নিয়োগ, প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা ও জনগণের প্রকৃত সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত অগ্রাধিকার।
সভায় এবারের বাজেটের কাঠামোগত সমস্যা নিয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মাহতাব উদ্দীন আহমেদ। প্রবন্ধে বলা হয়, গত ১৮ বছরে জনপ্রশাসন খাতের বাজেট বেড়েছে ২৮ গুণ। চলতি বাজেটের ২৮ শতাংশই ব্যয় হবে জনপ্রশাসন খাতে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রকৃত বাজেটের তুলনায় এ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে যে বর্ধিত ব্যয় হয়েছে, তার ৫১ শতাংশই জনপ্রশাসন খাতে, যেখানে শিক্ষায় ১৭ শতাংশ ও স্বাস্থ্যে ১২ শতাংশ।
প্রবন্ধে আরও বলা হয়, বাজেট ব্যবস্থায় প্রধান সমস্যা হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব। সরকারের ৬১টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওয়েবসাইটের তথ্য তুলে ধরে প্রবন্ধে বলা হয়েছে, এ বছর মাত্র দুটি মন্ত্রণালয় তাদের ব্যয়ের বিস্তারিত হালনাগাদ তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট, দুর্নীতি দমন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ ২৬টি মন্ত্রণালয়-বিভাগের কোনোটিরই ওয়েবসাইটে বাজেটের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সভায় আরও বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য হারুন অর রশীদ, অধ্যাপক গোলাম রসুল, মোশাহিদা সুলতানা, চলচ্চিত্র নির্মাতা আকরাম খান প্রমুখ।