ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে বছরের প্রথম ৯ মাসে প্রবাসী আয় এসেছে ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার

এ অর্জনকে ব্র্যাক ব্যাংকের প্রতি প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক পার্টনারদের আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষছবি: ব্র্যাক ব্যাংকের সৌজন্যে

২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে আসা প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) ২৫০ কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ব্যাংকটি ২০২৫ সালে অর্জিত ২২০ কোটি মার্কিন ডলারের রেকর্ড অতিক্রম করেছে।

ব্র্যাক ব্যাংক ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তিন শ কোটি ডলারের বেশি প্রবাসী আয় অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। গত পাঁচ বছরের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে ব্যাংকটি এ লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক পার্টনারশিপ বৃদ্ধি, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং প্রবাসী বাংলাদেশি ও তাঁদের পরিবারের জন্য ব্যাংকিং সেবা আরও সহজলভ্য করার উদ্যোগ এই প্রবৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মতো প্রধান রেমিট্যান্স করিডরগুলোর এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর সঙ্গে ব্র্যাক ব্যাংক একটি শক্তিশালী গ্লোবাল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।

ব্যাংকটির অ্যাডভান্সড হোস্ট-টু-হোস্ট টেকনোলজি ইন্টিগ্রেশন এবং আন্তর্জাতিক পার্টনারদের সঙ্গে এপিআই কানেক্টিভিটি ক্রস-বর্ডার অর্থ স্থানান্তর আরও দ্রুত, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করে তুলেছে। দেশজুড়ে ব্যাংকটির বিস্তৃত শাখা, উপশাখা এবং এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক গ্রামীণ এলাকাসহ সব অঞ্চলের রেমিট্যান্স সুবিধাভোগীদের কাছে এই সেবা খুব সহজেই পৌঁছে দিচ্ছে।

অর্থ প্রেরণ সেবার পাশাপাশি অনাবাসী বাংলাদেশি ও তাঁদের পরিবারের বৃহত্তর আর্থিক চাহিদা পূরণেও ব্র্যাক ব্যাংক সেবার পরিসর বাড়িয়েছে। তাঁদের জন্য রয়েছে প্রবাসী ভার্চ্যুয়াল সেভিংস অ্যাকাউন্ট, প্রবাসী পরিবার অ্যাকাউন্ট, তারা প্রবাসী পরিবার অ্যাকাউন্ট এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট সেবা।

প্রবাসীরা ব্যাংকটির ডিজিটাল ই-কেওয়াইসি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশ থেকেই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন। পাশাপাশি ‘আস্থা’ অ্যাপ ব্যবহার করে ফান্ড ট্রান্সফার, বিল পরিশোধ, ডিপিএস ও এফডিআর খোলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা উপভোগ করতে পারছেন। এসব সেবার মাধ্যমে প্রবাসীরা বিদেশে থেকেও দেশে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছেন। একই সঙ্গে তাঁদের পরিবার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় রেমিট্যান্সের অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে তোলার সুযোগ পাচ্ছে।

এ ছাড়া ব্যাংকটি রেমিট্যান্স গ্রহণকারী গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য ‘উঠান বৈঠক’-এর আয়োজন করছে, যা বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো এবং ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করছে।

ব্র্যাক ব্যাংকের এমন অর্জন বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ‘বছরের প্রথম ৯ মাসের ২৫০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স সংগ্রহ ব্র্যাক ব্যাংকের প্রতি প্রবাসী ও আন্তর্জাতিক পার্টনারদের আস্থার প্রতিফলন। আমাদের লক্ষ্য হলো রেমিট্যান্স–যোদ্ধাদের বিশেষ ও কার্যকর ব্যাংকিং সেবা দেওয়া। যাতে তাঁরা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশে তাঁদের অর্থ সঠিকভাবে বিনিয়োগ করতে পারেন।’

তারেক রেফাত উল্লাহ খান আরও বলেন, ‘প্রবাসী এবং তাঁদের পরিবারের জন্য রেমিট্যান্স পাঠানো আরও দ্রুত, নিরাপদ ও সহজ করতে আমরা প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখব।’