সন্ধ্যা নামার আগে সংগীত পরিবেশন শুরু হয়। কিন্তু বিকেল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর লোকজন সমবেত হতে থাকেন আমলীতলা মাঠে। তাঁদের সঙ্গে সমবেত হয় স্থানীয় বাঙালি জনগোষ্ঠীও। গানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বঞ্চনা, অধিকার আদায়ের সংগ্রামের নানা দিক তুলে ধরা হয়।

আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব লিয়াং রিছিলের সঞ্চালনায় সংগীত শুরুর আগে আমলীতলা গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রবীণ ব্যক্তি বঙ্কিম মৃ।

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক জন জেত্রা জানান, মধুপুর গড়ের দোখলা আমতলী বাইদ এলাকায় ৪৫ বিঘা জমিতে ১৩টি গারো পরিবার বংশপরম্পরায় চাষাবাদ করছে। বন বিভাগ সেখানে ‘স্থানীয় ও ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তায় মধুপুর জাতীয় উদ্যানের ইকোট্যুরিজম উন্নয়ন ও টেকসই ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ের উদ্যোগ নিয়েছে।

এর প্রতিবাদে কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করছেন মধুপুরের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর লোকজন। তাঁরা ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বংশপরম্পরায় চাষের জমিতে লেক খনন প্রকল্প বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবেই এই প্রতিবাদী গানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি অনন্ত বিকাশ ধামাই, সাংগঠনিক সম্পাদক টনি চিরান, বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অলিক মৃ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সহসভাপতি অজয় এ মৃ, কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপায়ন খীসা, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নিপন ত্রিপুরা প্রমুখ।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন