ফেনীর ‘আওয়ামী গডফাদারের অভিভাবকের’ বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত শুরু

আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী (নাসিম) এলাকায় গেলে এভাবে পা ছুঁয়ে সালাম করতেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এই ছবিতে ফেনী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খায়রুল বাশার মজুমদারকে (তপন) পা ছুঁয়ে সালাম করতে দেখা যাচ্ছেছবি: সংগৃহীত

ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর (নাসিম) বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গতকাল বুধবার তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়। দুদক সূত্র বলছে, আলাউদ্দিন ক্ষমতার অপব্যবহার, জমি দখল, নিয়োগ–বাণিজ্য, দলীয় পদ–বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। এ ছাড়া তাঁর নিজ ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী (নাসিম) ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে ফেনী-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হন। তবে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগপর্যন্ত ফেনীতে তাঁর পরিচয় ছিল ‘নিজাম হাজারীর অভিভাবক’।

ক্যাডার থেকে নিজাম হাজারীর গডফাদার হয়ে ওঠার মূল পৃষ্ঠপোষক ছিলেন শেখ হাসিনার সাবেক প্রটোকল কর্মকর্তা নাসিম। তিনি ফেনী গেলে নিজাম হাজারীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা পা ধরে সালাম করতেন। সভা-সমাবেশে নাসিমকে পরিচয় করিয়ে দিতেন ‘আমার অভিভাবক’ বলে। ফেনীতে ব্যানার-ফেস্টুনে লেখা হতো ‘ফেনীর অভিভাবক’। দলে বা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে বা দায়িত্বে না থাকলেও জেলার সব জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছিলেন নাসিমের অনুগত।

আরও পড়ুন

নাসিমের এত প্রভাবের কারণ খুঁজতে ফেনীতে রাজনৈতিক নেতাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা হয়। তাঁদের ভাষ্য, আলাউদ্দিন নাসিমকে আগে সবাই শেখ হাসিনার ‘প্রটোকল অফিসার’ হিসেবেই চিনতেন। এর বাইরে তিনি শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আড়ালে-আবডালে ‘ফান্ড ম্যানেজার’ বলেও আলোচনা করতেন অনেকে।

আরও পড়ুন